বাচ্চাটার মৃত্যুর অপেক্ষা করছিলাম

আগুন নিভানোর পর দেখি বাচ্চাটা জ্বলেপুড়ে যেন পোড়া কয়লা হয়ে আছে, কিন্তু তখনও শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিলো ২ মাস বয়সি জ্যোতি দাশ। আমি তাড়াতাড়ি জ্যোতিকে নিয়ে দৌড় দিলাম বান্দরবান সদর হাসপাতালের দিকে, শুধু সে বাঁচবে বলে। ১ ঘন্টা সে মৃত্যুর সাথে লড়াই করেছিলো। তুলতুলে কোমল দেহের মাত্র ২ মাসের শিশু জ্যোতি দাশের দগ্ধ দেহের কষ্ট দেখে এক সময় তার মৃত্যুর অপেক্ষা করছিলাম। যাতে সে কষ্ট থেকে মুক্তি পায়, ছোট্ট এই শিশুর কষ্ট নিজের মধ্যেই অনুভূত হলো। ভাবুন তো, আমাদের শরীর একটু পুড়লে কেমন লাগে?। আমার জীবনে এমন ঘটনার সাক্ষী হলাম এই প্রথম।

বান্দরবান শহরের মধ্যম পাড়ায় মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে আগুনে পুড়ে নিহত হওয়া শিশু জ্যোতি দাশকে উদ্ধারকারী মর্মান্তিক ঘটনার স্বাক্ষী রিমন বড়ুয়া পাহাড়বার্তা’র নির্বাহী সম্পাদক এস বাসু দাশ’কে তুলে ধরেন সেই দিনের মর্মান্তিক এই ঘটনা।

রিমন বড়ুয়া পাহাড়বার্তাকে বলেন, আমার বসবাস শহরের মধ্যমপাড়ায়, আমি বাসায় ছিলাম। হঠাৎ শুনি আমাদের বাসার পাশের বাসায় নাকি আগুন লেগেছে। আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি আগুন জ্বলছে। তখন দেখি বাচ্চার মা পাগলের মত কান্নাকাটি করছে, তারপর আমরা কয়েকজন মিলে আগুন পানি দিয়ে নিভিয়ে ফেলি। আগুন নিভে যাওয়ার পর দেখি বাচ্চাটা (জ্যোতি দাশ) কম্বলের সাথে মুড়ানো। পুড়ে ওর হাত-পা ওপরে দিকে তোলা অবস্থায় আছে।

তারপর একটা ছোট ছেলেও প্রথমে তাকে দেখে, সেও ভয়ে আর বাচ্চাটাকে নিতে যায় না, তারপর আমি যায় বাচ্চাটা নিতে। নিতে গিয়ে দেখি বাচ্চাটা নাক দিয়ে একটু একটু শ্বা:স নিচ্ছে, তখনও তার দেহে প্রান ছিলো।

রিমন বড়ুয়া পাহাড়বার্তাকে আরো বলেন, আমি আর দেরি করিনি,সেই পোড়া কম্বলসহ শিশু জ্যোতিকে আগুনে পোড়া ঘর থেকে বের করি। ঘরের পোড়া বিছানার কম্বলে মিশে থাকা জ্যোতিকে কোন ভাবেই কম্বল থেকে আলাদা করতে পারছিলাম না, অনেক কষ্টে তাকে কম্বল থেকে বের করি। কারণ সে ৯৯% পুড়ে গিয়েছিলো ….আর কম্বলটা বাচ্চাটার সাথে অর্ধেক পোড়া অবস্থায়। তারপর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আমি রাস্তায় টমটম খূঁজতে গিয়ে তখন কোনো টমটম মিলছিলোনা। একটা পুলিশের গাড়ি ছিলো তখন ওই গাড়ি দিয়ে জ্যোতিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, আর সেখানেই সে শেষ অন্তিম পথের যাত্রী হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা থেকে বান্দরবান শহরের মধ্যমপাড়ায় বাপের বাড়িতে আসা শিশুটির মা জয়া দাশ সন্তান জ্যোতি দাশকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে শৌচাগারে গেলে শিশু জ্যোতি ততক্ষনে পুড়ে আঙ্গার হয়ে যায়। হ্যারিকেন বাতি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রতিবেশীরা ধারণা করছেন।

আরও পড়ুন
Loading...