বাদুড়ের অভয়ারণ্য : বান্দরবান জেলা প্রশাসক প্রাঙ্গণ

বান্দরবান জেলা প্রশাসক প্রাঙ্গনের সেগুন গাছের ঢালে বাদুড়
বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণের সেগুন গাছটি যেন বাদুড়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বহু বছরের পুরানো সেগুন গাছগুলোতে শুরু থেকেই বাদুড়ের বসবাস। গাছগুলোতে এখন বসবাস করছে অগণিত বাদুড়, এদের বসবাস, বিচরণ আর কিচিরমিচির শব্দে দিনরাত মুখরিত থাকে এলাকাটি।
জানা গেছে,প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাদুড়ের ছোটাছুটিতে এলাকাটিতে সৃষ্টি হয় সৌন্দর্যের অবর্ণনীয় এক পরিবেশ। আকাশের দিকে তাকালে এদিক সেদিক দেখা যায় উড়ন্ত বাদুড়ের দল। গোধুলী রক্তিম আকাশে শত শত বাদুড়ের ডানামেলা দৃশ্যে এলাকাটিকে মনে হয় প্রকৃতির এক অপার সৌর্ন্দযের বেলাভূমি। খাদ্যের সন্ধানে পড়ন্ত বিকেলে উড়ে চলা বাদুড়গুলো দেখে মনে হয় আকাশ যেন কালো মেঘে ঢাকা। মনোরম এ দৃশ্য দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক প্রকৃতি প্রেমিরা ছুটে আসেন এখানে।
সাধারণত বাদুড় গুহায় কিংবা অন্ধকার জায়গায় থাকে। স্বচোখে দেখা মেলা অনেকটা ব্যতিক্রম। কিন্তু বান্দরবান জেলা প্রশাসকের প্রাঙ্গনে দেখা মেলে প্রতিদিনই অসংখ্য বাদুড়। গাছটিতে কয়েক শতাধিক বাদুড়ের বসবাস। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পার্শ্বে রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন যানবাহন যাতায়াত করে। এত লোকের ভিড়েও প্রায় কয়েক যুগ ধরে বসবাস করে আসছে অগণিত বাদুড়। এরা সন্ধ্যায় দলে দলে বিভিন্ন দিকে বেরিয়ে যায় খাবারের খোঁজে, আবার ফিরে আসে একই স্থানে। কিছুক্ষণ কিচমিচ শব্দ করে পাঁ দিয়ে গাছের মগ ডালে আঁকড়ে ধরে মাথা নিচে দিয়ে ঝুলে ঘুমিয়ে থাকে। দুপুরে দেখা যায় ডানা ছেড়ে হাত পাখার মতো বাতাস করে আর কিছুক্ষণ কিচমিচ শব্দ করে আবার স্থির হয়ে যায় সব বাদুড়।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক প্রাঙ্গনের সেগুন গাছের ঢালে বাদুড়
বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্টান অনিদ্য ফটোস্ট্যাট এন্ড কম্পিউটারের প্রোপাইটার বাসুদেব বিশ্বাস জানান, আমরা খুব ছোটকাল থেকে দেখে আসছি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনের গাছগুলোতে বাদুড়ের অবস্থান। রাত কিংবা দিন উভয় সময়ে এই বাদুড় দেখা মেলে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্টান জিহান টেলিকমের কর্ণধার মো:জিহান বলেন,সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান, আর এই সৌন্দর্যকে আরো ধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে আমাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনের গাছগুলোর বাদুড়গুলো। আমরা প্রতিদিনই বাদুড়গুলো দেখতে পাই। বিকেলে বা সন্ধ্যায় শরীরচর্চা করতে বের হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে ছুটে যায় আর বাদুড়ের কিছমিচ শব্দ শুনে মুখরিত হয়।
এদিকে স্থানীয়রা মনে করছে জেলা প্রশাসনের প্রাঙ্গনে লাগানো চারাগাছগুলো সেবা-যত্নের মাধ্যমে বড় করা হলে শুধু বাদুড় নয়, বিভিন্ন ধরণের পাখির কলতানে মুখরিত হওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া থেকে বেঁচে যাবে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।