বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের টেকবুনিয়া এলাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বৈঠক প্রাঙ্গনের এর চিত্র
নো ম্যান্স ল্যান্ডে কোন আতংক নেই, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আমাদের জাতীয় ও উচ্চপর্যায়ে কথা হচ্ছে, আশা করি অতি দ্রুত ফিরে যাবে। পতাকা বৈঠক শেষে শুক্রবার বিকেলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের জিরো পয়েন্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মঞ্জুরুল হাসান খান।
তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারে পরিস্থিতির জন্য তারা সীমান্তে সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে,তবে আমরা তাদের বলেছি, ভবিষ্যতে যদি সীমান্তে কোন কিছু করেন তাহলে আমাদের জানিয়ে করবেন। যাতে দু দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোন ধরনের ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।
সীমান্তের ঢেকুবুনিয়ার ২২ নং পিলারের কাছে বিকেলে সাড়ে ৩টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে ঘন্টাব্যাপী এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ৩৪ ব্যাটেলিয়ানের ৬ সদস্যের নেতৃত্ব লেঃ কর্ণেল মঞ্জুরুল হাসান খান এবং মিয়ানমার বিজিপি ( বর্ডার গার্ড পুলিশ ) পক্ষে ব্যাটেলিয়ান কমান্ডার লে: কর্ণেল সোজায়া লিং।
ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানানোর সাথে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন,‘মিয়ানমার সীমান্তে ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় ফাঁকা গুলির আগে বাংলাদেশকে অবহিত করবে বলেও জানান।
আর এদিকে সীমান্তে বাংলাদেশে কেন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এমন মিয়ানমারের বিজিপির প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বিজিবি জানাই, এটা মিয়ানমারকে টার্গেট করে করা হয়নি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যই আমরা এটা করেছি।’
মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, ‘তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের যে কোনও সময় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ।’ তিনি জানান, সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গারাও ভালো আছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ‘মিয়ানমার সেনা বাহিনী গুলিবর্ষণ শব্দ শুনে নো মেন্স ল্যান্ডের অবস্থানরত কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলে আসেন। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।’
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের কোনাপাড়ার ঠিক ওপাড়ে গত বৃহস্পতিবার সকল থেকে ভারী অস্ত্রসহ হালকা অস্ত্র নিয়ে শুন্যরেখায় সৈন্য সমাবেশ করে আসছে মিয়ানমার। তবে সন্ধ্যা পর মিয়ানমার সেনারা দুইটি ফাঁকা গুলি বর্ষণের আওয়াজ করে আতঙ্কের চেষ্টা চালাছে। রোহিঙ্গারা লাঠিসোঠা নিয়ে রাত জেগে পাহাড়া দেওয়ার প্রস্তুতিও নেয়। আর এদিকে সীমান্তের বিজিবির টহল জোরদার করে।
স্থানীয় রোহিঙ্গা আমজাদ হোসেন জানান,আমরাও আমাদের পরিবার পরিজনকে সমস্যা থেকে রক্ষা করতে বিজিবির পাশাপাশি আমরাও পালাক্রমে রাতজেগে পাহাড়া দিচ্ছি।
এদিকে বৈঠকের আগে শুক্রবার সকালে বান্দরবান উপজলার ঘুমধুমের তমব্রু সীমান্তে নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকা পরিদর্শন করেছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক, ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান, বান্দরবান লামা উপজেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুস সালাম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এন সরওয়ার কামাল প্রমুখ।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Shoaib Tiseen বলেছেন

    shomojotai asle vlo hoy…

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।