বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বনের পাশেই অবৈধ ইটভাটা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে বনের পাশেই গড়ে উঠেছে এক নেতার অবৈধ ইটভাটা। একদিকে বনের কাঠ পুড়ানো,অন্যদিকে এই ভাটার কাছেই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার কারনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চাক হেডম্যান পাড়ার এই ইটভাটা আশেপাশে অবস্থিত এম,এ কালাম কলেজ,ছালেহ আহাম্মেদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও তাংরা বিছামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সব মিলে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত যাতায়ত করতে হচ্ছে ইটভাটার এ প্রধান সড়ক দিয়ে। এতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী।

তাংরা বিছামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানায়,‘গত বছর ইটভাটা চালু হওয়ার পর হঠাৎ একদিন আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে ডাক্তারের নিকট গিয়ে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠি।’

আরো জানা গেছে,প্রধান সড়কের পাশে মজুদ করে স্তুুপ করা হয়েছে কয়লা আর কাঠের কয়লার মিশ্রন কিন্তু রাতের আধারে জ্বালানো হয় বনের কাঠ। ইট তৈরীর জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে জমির টপসয়েল ও পাহাড়ের মাটি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ভাটাটিতে এক যুগ ধরে ইট পোড়ানোর কাজ চললেও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।

জানা গেছে,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা-সদর ইউনিয়নের তাংরা বিছামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের অদূরে চাকঢালার প্রধান সড়ক। পাহাড়ের গা-ঘেষেঁ এবং চাক সম্প্রদায়ের বৃহত্তর ঘনবসতি পাড়ার চাক হেডম্যান পাড়া নামক এলাকায় জেট,এ,সি “ব্রিকস ভাটাটি স্থাপন করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদের ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি জহির আহাম্মেদ।

ভাটার মাত্র ২শত গজের দুরে রয়েছে তাংরা বিছামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দেড় কিলোমিটার দুরে রয়েছে হাজী এম,এ কালাম সরকারী কলেজ ও ২ কিলোমিটার দুরে রয়েছে ছালে আহাম্মদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। রয়েছে বেশ কয়েকটি চাক-মার্মা ও বাঙালী সম্প্রদায়ের বসত গ্রাম ও ফলজ-বনজ বাগান।

ভাটা মালিক জহির আহাম্মেদ জানান,‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কয়লার পরিবর্তে ভাটায় খড়ির মজুদ কেন জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান তিনি।’

ইট প্রস্তুত ও পোড়ানো পরিবেশ অধিদপ্তর আইনে (২০১৩ এর সংশোধনী) উল্লেখ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,বাগান ও আবাসিক এলাকার ১ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাত্র ২৫০ মিটার দুরে ভাটাটি স্থাপন ও দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ইট পোড়ানোর কাজ করে আসছেন যুবলীগ নেতা জহির আহাম্মেদ।

উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো,শফি উল্লাহ জানান,‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে ইট পোড়ানো বন্ধ রাখার জন্য ভাটার মালিককে বারবার নিষেধ করার পরও তা মানছেন না।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি জানান, সদরের জেট,এ,সি ব্রিকসের ইট প্রস্তুত ও পোড়ানোসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে কি না সেটি আমার জানা নেই। লাইসেন্সবিহীন প্রত্যেকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রয়েছে।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট একে,এম ছামিউল আলম জানান, নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।