বান্দরবানের পাহাড়ে তুলা চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে চাষীরা

বান্দরবানের মংপ্রু ছড়া থেকে তুলা সংগ্রহ করছে এক আদিবাসী নারী
বান্দরবানের বেশিরভাগ এলাকায় একসময় তামাকের আগ্রাসন থাকলে ও সময়ের পরিবর্তনে অনেক এলাকাতে এখন শুরু হয়েছে তুলা চাষ,আর এই তুলা চাষের ফলে চাষীদের জীবনে ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা, চাষীরা ঝুঁকছে তুলা চাষে, আর তুলা বিক্রি করে অনেকেই হচ্ছে লাভবান।
বর্তমানে জেলার ৭টি উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে পাহাড় থেকে তুলা উত্তোলন শুরু করে দিয়েছে চাষীরা, চাষীরা দেশী তুলার পাশাপাশি হাইব্রিড তুলা চাষে ফলন ভাল পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের পাশাপাশি তুলার চাহিদাও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে , কিন্তু সে হারে তুলা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না আর সেক্ষেত্রে বান্দরবানে তুলা চাষ আশার সঞ্চার করেছে। প্রথম দিকে পার্বত্য জেলায় পাহাড়ী তুলা উৎপাদন করলেও এখন সমভূমি তুলার চাষের প্রতি ঝুকঁছে অনেক চাষী। জেলায় এবার পাহাড়ী তুলার পাশাপাশি সমভূমি সিবি ১২,১৩ ও ১৪ এর চাষ হয়েছে।
জেলার মেঘলা,চিম্বুক,চড়ূইপাড়া,লেমুঝিড়ি,বালাঘাটা জয় মোহন পাড়াসহ বিভিন্ন পাড়ায় চলছে তুলার চাষ, চাষীরা পাহাড়ে জুম চাষের পাশাপাশি তুলা চাষ করে বিক্রি করে লাভবান হওয়া স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।
বান্দরবানের মংপ্রু ছড়ার তুলা চাষী সুয়ে প্রু অং মার্মা জানান, গত বছর তুলা চাষ করে ২২ হাজার টাকা আয় করি, এবার আয় হয়েছে প্রায় ১২-১৩ হাজার টাকা। এবছর ২কানি তুলা বাগান করেছি ,এখনো তুলা বিক্রি করিনি, কয়েকদিন পরে সব তুলা তুলে বিক্রি করব ,ভালো দাম পাব আশা করি, তুলা চাষে লাভ তো আছেই।
বান্দরবানের মং প্রু ছড়ার তুলা চাষী ম্রাইচিং মার্মা জানান,একসময় আমাদের পাড়াঁয় শুধু আমরা স্বামী স্ত্রী তুলা চাষ করতাম,কিন্তুু ফলন বেশি,ব্রিক্রি করে লাভ ও ভালো পাওয়ায় এখন অন্যান্যরা ও তুলা চাষ শুরু করছে। তুলা চাষ করে আমাদের পরিবার ভালোই চলে।
বান্দরবান সদরের বালাঘাটার তুলা চাষী অং মে জানান, আমাদের এলাকার মাটি ভালো,তাই আমরা তুলা চাষ করি। আগামীতে ও আমরা তুলা চাষ করব। তুলা অফিস যদি আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করে যায় তাহলে আমাদের লাভ বাড়বে।
তুলা উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান জোনের তথ্য মতে ,২০১৭ সালে শুধু জেলা সদরে ৪০হেক্টর জমিতে সমভূমি তুলা চাষাবাদ করা হয় আর এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ৮০ টন তুলা যার মনপ্রতি দাম পাওয়া যায় ২হাজার ২শত ৪০টাকা। আর এ বছর ৫০হেক্টর জমিতে সমভূমি তুলা চাষাবাদ হয়েছে যার প্রেক্ষিতে প্রায় ১২০ টন তুলা উৎপাদনের আশাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে শুধু জেলা সদরে ৬ হাজার ১শত ৮১ হেক্টর জমিতে পাহাড়ী তুলা চাষাবাদ করা হয় আর এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৩ শত ৬৪ টন তুলা যার মনপ্রতি দাম পাওয়া যায় ২হাজার ৪০০শত টাকা । আর এবছর ৮ হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে পাহাড়ী তুলা চাষাবাদ হয়েছে যার বিপরীতে প্রায় ২ হাজার টন তুলা উৎপাদন হওয়ায় আশাবাদ করা হচ্ছে ।
তুলা উন্নয়ন বোর্ড,বান্দরবান জোনের কটন ইউনিট অফিসার অংক্যচিং চাক জানান, তুলা চাষীদের প্রশিক্ষণ,উন্নত জাতের তুলার বীজ প্রদান, সার প্রদান ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি সপ্তাহে তুলা চাষীদের সাথে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
তুলা উন্নয়ন বোর্ড,বান্দরবান জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো:আলমগীর হোসেন মিধা জানান,বান্দরবানে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার চাষী বিভিন্ন সময় তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ নিয়ে তুলা উৎপাদন করছে,প্রশিক্ষনে চাষীদেরকে তুলা উৎপাদন,সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ওপর ব্যাপক ধারণা দেওয়া হচ্ছে। একসময় চাষীরা পাহাড়ে শুধু তামাক চাষ করে জীবনধারণ করলে ও সময়ের সাথে সাথে এখন বেশি লাভ হওয়ায় অনেক চাষীই তুলা চাষ করছে।
তিনি আরো বলেন ,তুলা চাষীদের প্রশিক্ষণ,উন্নত জাতের তুলার বীজ প্রদান,সার প্রদান ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।