বান্দরবানের রাজনীতিতে নতুন দোকান ‘জননেত্রী সৈনিক লীগ’

দেশের বিভিন্ন জেলার মতো বান্দরবানেও দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংগঠন হিসাবে নিজেদের জাহির করে ভুঁইফোড় সংগঠন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন দোকান নামে পরিচিত জননেত্রী সৈনিক লীগ নামে সংগঠন গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ জানুয়ারি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মরত মঈন উদ্দিন বাবলুকে সভাপতি ও মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (মুদি দোকানদার) কে সাধারণ সম্পাদক, বাবুল কর্মকার ওরফে বাবুমনি (হোটেল ব্যবসায়ি) কে সহ সভাপতি ও মো: জাকিরকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে এই সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে, হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ এর ব্যবসা, ভূমি জালিয়াতি, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা ও কমিটিতে জনবল নিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বাজারের স্থানীয়রা জানান, সংগঠনটির জেলা কমিটি গঠনের পর ইতিমধ্যে সংগঠনটি জেলার ৭টি উপজেলায় ও ইউনিয়নে তাদের কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া শেষ করেছে। বান্দরবানে ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ার কারিগর এই সংগঠনের সহ সভাপতি বাবু মনির বিরুদ্ধে রয়েছে অনেক অভিযোগ। ‘জননেত্রী সৈনিক লীগ’ ও বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল এর এই নেতা দূর্গা মন্দিরের পাশের থ্রী স্টার হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন, আর এনিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষোভ বিরাজ করলে তিনি বিভিন্ন সংগঠনের নেতা এই পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করায় কেউ মুখ খুলতে নারাজ। অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে চলতি বছরের শুরুতে সদর থানার ওসি থ্রী স্টার হোটেলে অভিযান চালিয়ে পতিতাসহ এই বাবু মনিকে আটক করলেও বিশেষ তদবিরে তিনি ছাড়া পান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারের এক বাসিন্দা বলেন, হোটেলে অবৈধ ব্যবসা চালাতে হোটেলের পাশেই সংগঠনটির নেতা বাবু মনি জননেত্রী সৈনিক লীগ নামের সংগঠনটির কার্যালয় করেছেন।

আরো জানা গেছে, “একাত্তরের চেতনায় জেগে উঠার সময়” এই স্লোগান সম্বলিত জননেত্রী সৈনিক লীগের সাইনবোর্ড উত্তোলন করে বান্দরবান কেন্দ্রিয় দূর্গা মন্দিরের সামনে। সাইনবোর্ডে বঙ্গবন্ধু , প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় এর ছবি’সহ বান্দরবানের ৫ নেতার মোবাইল নাম্বার এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকা কার্যালয়ের ঠিকানা শোভা পাচ্ছে।

এই ব্যাপারে জননেত্রী সৈনিক লীগ এর বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, এটি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন। সংগঠনটি আওয়ামী লীগকে সহযোগীতা করতে গঠন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের ৮টি সহযোগী ও দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলো হলো, যুবলীগ, কৃষক লীগ, তাঁতী লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ আইনজীবী পরিষদ ও মৎস্যজীবী লীগ। আর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন দুটি হলো ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ।

সংগঠনতন্ত্রে না থাকলেও চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীনদের ‘সায়’ দেখা যায়। তা ছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের মতো কিছু সংগঠনের কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয় আওয়ামী লীগ।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সংগঠনগুলোকে ‘দোকান’ বলা হচ্ছিল তখন থেকেই। এসব সংগঠনের কর্মসূচিতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধান অতিথি হয়ে যেতেন। ফলে, সংগঠনগুলোর সংবাদ গণমাধ্যমে আসত। মূলত, গণমাধ্যমে আসার কারণে নামসর্বস্ব এসব সংগঠনের সভাপতি বা সেক্রেটারি সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা নিতেন এবং প্রভাব দেখাতেন।

এই ব্যাপারে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে ‘জননেত্রী সৈনিক লীগ’ নামে কোন সহযোগী সংগঠন নেই, এই ধরণের সংগঠন কেউ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।