বান্দরবানের রামজাদিতে বন বিভাগের অনুমতি না নিয়েই মিনি চিড়িয়াখানা !

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার উচহ্লা ভান্তের প্রতিষ্ঠিত রামজাদিতে সরকারের বন্যপ্রাণী আইন অমান্য করে মিনি চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়েছে। আর সেখানে ২৫টি বানরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার ৩৪০ নং তাড়াছা মৌজায় বিভিন্ন জনের ভূমি দখল করে গড়ে তোলা রামজাদীতে ছোট বড় ২৫টি বানর সংগ্রহ করে কাটা তারের বেষ্টনি তৈরী করে অবরুদ্ধ করে রাখেন প্রয়াত উচহ্লা ভান্তের শিষ্যরা।

আরো জানা গেছে, জেলার দূর্গম থানচিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বানর সংগ্রহ করে ভান্তের শিষ্যরা মিনি চিড়িয়াখানা তৈরী করেন। বানরগুলোকে যথাযথ খাদ্য সরবরাহ না করে রামজাদীতে আসা দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য অবরুদ্ধ রাখেন।

হিন্দু ধর্মীয় অবতার রামকে অনুকরনে রাম জাদিটি নির্মান করা হলেও সেখানে হিন্দু ধর্মীয় অনুসারীদের সচরাচর প্রবেশ করতে দেখা যায়না। তবে প্রবেশের জন্য ৩০ টাকা অর্থ ব্যয় করে যেকেউ সেখানে প্রবেশ করে রামজাদির চিড়িয়াখানার বানর অবলোকন করতে পারে।

জেলা শহরের বাসিন্দা সাইদুল আজাদ বলেন, শিশুদের বানর দেখানোর জন্য রাম জাদীতে ৩০ টাকায় টিকেট কেটে প্রবেশ করি, তবে মনে হচ্ছে বানরগুলোকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়না।

আরো জানা গেছে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ৬। (১) এই আইনের অধীন লাইসেন্স বা ক্ষেত্রমত, পারমিট গ্রহণ ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন বন্যপ্রাণী শিকার বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোন উদ্ভিদ ইচ্ছাকৃতভাবে উঠানো, উপড়ানো, ধ্বংস বা সংগ্রহ করিতে পারিবেন না বলা হলেও সেখানে তারা বনবিভাগ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে সেখানে বানরের মিনি চিড়িয়াখানা করেন, ফলে স্থানীয় প্রাণীবাদীরা অনতিবিলম্বে বানরগুলো সেখান থেকে অবমুক্ত করার দাবী জানিয়েছে।

এই ব্যাপারে শহরের বাসিন্দা উখ্যানু মার্মা বলেন, যেখানে ভগবান বুদ্ধ জীব প্রেম সম্পর্কে বলতে গিয়ে জীব হত্যা মহাপাপ বলেছেন, সেখানে বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এভাবে প্রাণী বন্দি রেখে প্রাণীর প্রতি অবিচার করা কোন ভাবেই কাম্য নয়।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ তে এসংক্রান্ত অপরাধের দন্ড সম্পর্কে বলা হয় ধারা ৬, ১০, ১১ ও ১২ এর বিধান লংঘনের দন্ড ৩৯। কোন ব্যক্তি ধারা ৬, ১০, ১১ বা ১২ এর বিধান লংঘন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্য প্রাণী সংরক্ষন বিভাগের কর্মকর্তা আবু নাসের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, অনুমতি ব্যতিথ বন্যপ্রাণী কেউ আটক করে রাখতে পারেনা।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের হদাবাবুর ঘোনায় পাহাড়ের চূড়ায় রামজাদির নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং দীর্ঘ ১২ বছর পর ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এটি পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। মন্দিরটির উচ্চতা ১৩০ ফুট।

আরও পড়ুন
Loading...