বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর চরে বাড়ছে বাদামের চাষ

বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর চরে বাদাম তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা
বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর চরে দিন দিন বাড়ছে বাদামের চাষ। নদীর এপার-ওপারে বাদাম তোলায় এখন চাষীরা পার করছে ব্যস্ত সময়। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় চাষীরা ঝুঁকছে বাদাম চাষের প্রতি।
প্রতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাদামের বীজ লাগানো হয় আর জানুয়ারি থেকেই এপ্রিল মাস পর্যন্ত ক্ষেত থেকে এই বাদাম তোলা শুরু হয়। বাদামের বীজ লাগানোর আগে হাল চাষ দিয়ে সামান্য নরম করে দিতে হয় মাটি। আর পরিস্কার করতে হয় আগাছা। তারপর সারি সারি করে লাগানো হয় বাদাম বীজ। মাটি উর্বর তাই দিতে হয় না কোন অতিরিক্ত সার কিংবা কীটনাশক, তিন মাসের মধ্যেই পরিপূর্ন বাদাম ফলে তাই অল্প কষ্টে অধিক লাভে খুশি বাদাম চাষীরা।
কৃষি বিভাগ জানায়, গেল বছরে জেলায় ৮৫৯ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয় আর এবছর বেড়ে চাষ হয়েছে ৯৭১ হেক্টর জমিতে। সাঙ্গু নদীর চরে দোঁআশ মাটি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা। তাছাড়া প্রতি বছর সাংগু নদীতে বন্যার পানিতে দু -কুল উপচে গেলে প্রচুর পলি এসে জমাট বাঁধে, আর এতেই কৃষকেরা বাদাম বীজ বপন করে। পলি মাটা এসে ভরাট হওয়ায় বীজ লাগালে সারের ব্যবহার কম লাগে আর উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা করছে অধিক লাভ।
বছরের এই সময় চাষীরা আলু, শীম, কপি চাষ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও কম খরচে অধিক লাভের কারণে বাদাম চাষের প্রতি দিন দিন বাড়ছে কৃষকের সংখ্যা, এক বিঘায় ১৮ কেজি বাদামের চাষ করলে উৎপাদন হয় ৭ থেকে ৮ মণ, আর লাভ বেশি হওয়ায় ক্ষেতে সময় দিচ্ছে অনেক চাষী।
বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নের ক্যামলং ব্লকের বাদাম চাষী পুনমং মার্মা জানান,আমরা সাংগু নদীর পাড়ে বাদাম চাষ করি , এখানে সার দিতে হয়না,বর্ষায় যে পলি মাটি এসে নদীর দুপাড়ে জমে সেখানে বাদাম চাষ করি ফলন ও বেশি হয়।
বান্দরবানের বাদামের মান ভালো,প্রতি বছর তাই বান্দরবান থেকে বাদাম ক্রয় করে কক্সবাজারের চকরিয়া ও টেকনাফে বিক্রি করে প্রচুর লাভবান হয় ব্যবসায়ীরা,আর বাদাম তোলা শুরু হতেই বাদাম বিক্রেতারা ও হাজির হয় বাদাম ক্ষেতে। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানে বাদাম কিনতে আসা ব্যবসায়ী মো:নুরুল আলম জানান,বান্দরবানের বাদাম সাইজে ভালো হয়,পুষ্টি ও ভালো এবং অন্য এলাকায় নিয়ে গেলে দাম ও ভালো পাওয়া যায়, তাই বাদাম কিনে দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করি।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ক্যা হ্লা উ মার্মা জানান, বান্দরবান জেলায় এখন ত্রিদানা,ঢাকা-১, ঝিঙ্গা,বারি-৫ ও স্থানীয় জাতের বিভিন্ন বাদামের চাষ হচ্ছে আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় জেলায় বাদাম চাষ সম্প্রসারণের জন্য কৃষকদের বীজ,সার ,কীটনাশকসহ নানা ধরনের উপকরণ প্রদান করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতের আওতায় এবছর জেলায় ৫০ জন বাদাম চাষীকে ৫০ শতক করে বাদাম প্রদশনী প্লট করে দেয়া হয়েছে আর ৩৫০ জন বাদাম চাষীকে ২০ কেজি করে বীজ প্রদান করে কৃষি বিভাগ বাদাম চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে,তাই লাভ বেশি হওয়ায় এই বাদাম চাষে ঝুঁকে পড়ছে অনেক চাষী।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো.আলতাফ হোসেন বলেন,বান্দরবান কৃষি বিভাগ জানায়,২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বান্দরবানে ৮৫৯ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৯শত ৮৬ মেট্রিক টন বাদাম উৎপাদন হয় ,আর এবছর ৯শত ৭১ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৭০০শত মেট্রিকটন বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অল্প সময় ও স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় জেলার নদীর তীরবর্তী এলাকায় দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষ ,তাই কৃষকদের প্রত্যাশা কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত বীজ ,সার ও ক্ষুদ্র ঋনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হলে পার্বত্য এলাকায় বাদামের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় ছাহিদা মিটিয়ে এই বাদাম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।