বান্দরবানের ১৪০তম ঐতিহ্যবাহী রাজ পূণ্যাহ কাল থেকে শুরু

বান্দরবানের বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী
রাজকর আদায়ের উৎসব বান্দরবান পার্বত্য জেলার ঐতিহ্যবাহী ১৪০তম বোমাং রাজ পূণ্যাহ মেলা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনদিনব্যাপি শুরু হচ্ছে।
সকাল দশটায় সৈন্য-সামন্ত্র বেষ্টিত বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী হাতে তলোয়ার এবং মাথায় রাজ মুকুট পরে রাজভবন থেকে বের হয়ে অতিথিদের নিয়ে পুরাতন রাজবাড়ি মাঠের মঞ্চে আসন গ্রহন করবেন। পাহাড়ী বাদ্যযন্ত্রের সুর,অন্যদিকে আদিবাসী তরুনীরা ফুল ছিটিয়ে রাজাকে বরণ করে নিবেন। পরে রাজা প্রজাদের কাছ থেকে বাৎসরিক কর (রাজস্ব) আদায় করবেন।
২১ ডিসেম্বর সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে রাজবাড়ী থেকে পুরাতন রাজার মাঠে শোভাযাত্রা শেষে রাজস্ব আদায়ের অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আরো উপস্থিত থাকবেন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরসহ দেশী বিদেশী অতিথিরা।
মেলাকে ঘিরে জেলার ১১ টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য মন্ডিত মনোজ্ঞ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এ সময় পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মিলন মেলা পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল, দেশি- বিদেশী পর্যটকরা ভীর জমায়। মেলায় পুতুল নাচ,সার্কেস,নগরদোলাসহ শত শত ষ্টল বসে। ২ শত বছরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রতিবছর রাজা প্রজাদের কাছ থেকে কর (রাজস্ব) আদায়ের জন্য এই মেলার আয়োজন করে থাকে। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে রাজপূণ্যাহ উৎসব ‘পইংজারা পোওয়ে’ নামে সমাধিক খ্যাত।
দূর দূরান্ত থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের হেডম্যান, কারবারী তথা সাধারন লোকজন রাজার কাছে মেলার প্রথম দিন উপহার হিসাবে মুরগী, মদের হাড়ি, চাল, ধান, বাগানের ফল মূল ইত্যাদিসহ ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে আসে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতা হিসাবে রাজার আশীবার্দ পাওয়ার জন্য সকাল থেকে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় থেকে পাহাড়ীরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে ভীর জমান। বোমাং সার্কেলের আদিবাসীদের কাছে রাজাকে দেবতুল্য বলে গণ্য করা হয়।
বোমাং সার্কেলের লগো
বান্দরবান বোমাং সার্কেলের ৯ হাজার জুমিয়া পরিবার আছে। প্রতি জুমিয়া পরিবার থেকে নেওয়া হয় বাৎসরিক রাজকর ৬ টাকা। তা থেকে সরকারের কাছে চলে যায় ২ টাকা .২৫ পয়সা। ১.২৫ পয়সা পান মৌজার হেডম্যানরা। বাকি ২ টাকা .৫০ পয়সা পান বোমাং রাজা। ১৯৮৮ সাল থেকে শত শত বছরের ধারাবাহিকতায় ১৭ তম রাজা হিসাবে ১৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী।
রাজ পূণ্যাহ উপলক্ষ্যে বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী পাহাড়বার্তাকে বলেন, প্রতিবছরের মতো রাজপূণ্যাহ আনন্দঘন ভাবে উৎযাপন হবে বলে আমি আশা করছি।
বৃটিশ শাসন আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলাকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে খাজনা আদায় করা হতো। ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত চাকমা রাজা পার্বত্য এলাকা শাসন করতো। ১৮৬৭ সালে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ অঞ্চলের মারমা অধ্যুষিত এলাকাকে বোমাং সার্কেল, ১৮৭০ সালে রামগড় ও মাইনি উপত্যকার এলাকাকে নিয়ে মং সার্কেল গঠিত হয়। বর্তমানে রাঙ্গামাটিকে চাকমা সার্কেল, বান্দরবানকে বোমাং সার্কেল এবং খাগড়াছড়িকে মং সার্কেল হিসাবে গণ্য করা হয়। প্রায় ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকার বান্দরবানের ৯৫টি, রাঙামাটির রাজস্থলি ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল। রাজপূণ্যাহ মেলাকে ঘিরে সকাল থেকে বান্দরবানের রাজার মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও রাজ মেলার নিরাপত্তার জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. প্রথম সূর্যের গল্প বলেছেন

    সফলতা কামনা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।