বান্দরবানে আজ আনা হবেনা উ চ হ্লা ভান্তের মরদেহ

বান্দরবানের স্বর্ণ মন্দির খ্যাত, বুদ্ধ ধাতু জাদীর কর্ণধার, খিয়ং ওয়া কিয়ং এর বিহারের অধ্যক্ষ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু উপঞঞাজোত মহাথেরো প্রয়াত হয়েছেন । আর সর্বজন শ্রদ্ধেয় বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু উপঞঞাজোত মহাথেরো (উ চ হ্লা ভান্তে) এর মরদেহ আজ সোমবার বান্দরবানে আনা হবেনা বলে পাহাড়বার্তা’কে ফোনে নিশ্চিত করেন, বান্দরবান পরিবার পরিকল্পণা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা: অং চালু।

আজ সোমবার সকালে (১৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ভান্দের লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয় । এর আগে তিনি আর নেই বলে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে অবস্থানরত বান্দরবান পরিবার পরিকল্পণা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা: অং চালু ।

তিনি আরো জানান, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় ।

তিনি পাহাড়বার্তা’কে আরো বলেন, ভান্তেকে পসেসিং করা হচ্ছে, ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় আছে, সেগুলো সম্পাদন করা হবে। মরদেহ বান্দরবানে আনা হবে কিনা এই ব্যাপারে ডা: অং চালু বলেন, উপঞঞাজোত মহাথেরো (উ চ হ্লা ভান্তে) এর মরদেহ আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বান্দরবানে আনা হবেনা।

আজ সোমবার দুপুর ২টার পরে গুরুভান্তের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানানো হবে বলে পাহাড়বার্তাকে ফোনে জানান ডা: অংচালু ।

এদিকে উ চ হ্লা ভান্তের মৃত্যু খবরে তিন পার্বত্য জেলাসহ সারা দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও ভক্তদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার ভক্ত ‍রয়েছে। মৃত্যুকালে এই ধর্মীয় গুরুর বয়স হয়েছিল ৬৪ ।

জানা যায়, উপঞঞাজোত মহাথেরো ১৯৫৫ সালে ২২শে ডিসেম্বর বান্দরবান পার্বত্য জেলার রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৯৫ সালে ৭ই জুন চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ উপন্ডিত মহাথের কাছে প্রব্রজ্যা গ্রহণ(গৃহজীবন ত্যাগ) করে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হন । এর ৬ মাস পরই পবিত্র মাঘী পূর্ণিমার দিনে তিনি উপসম্পদা (ভিক্ষুত্ব) গ্রহণ করেন ।

১৯৮১ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে L.L.B(Hons), ১৯৮২ সালে L.L.M এবং ১৯৮৩ সালে B.C.S পাশ করেন। B.C.S পাশের পর তিনি সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর মাত্র ১২ বছর তিনি কর্মজীবনে ছিলেন ।

২০০২ সালে জুলাই মাসে অনাথ ও গরীব ছেলেদের জন্য বি হ্যাপী লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন।

এছাড়াও বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্ণ মন্দির) এবং রাম জাদির প্রতিষ্ঠাতাও তিনি । এছাড়া তিনি ভারতের বুদ্ধগয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ মন্দির স্থাপন করেন।

এদিকে উনার প্রয়ানে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ বুড্ডিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুনন্দপ্রিয় ভিক্ষু।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।