বান্দরবানে আনারস চাষে সাফল্য

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পাহাড়ের ঢালুতে আনারস চাষ করে দারুন সাফল্য পেয়েছেন বান্দরবানের আনারস চাষীরা। ফলে হাসি ফুটেছে চাষীদের মুখে। এই আনারস যেমনি সুস্বাদু, তেমনি মিষ্টি, স্বাদে গন্ধে ও সাইজে বড়। ফলে উৎপাদিত আনারসের চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছে চাষীরা।

প্রতিদিন জেলা শহরের সদর উপজেলার লাইমি পাড়া, ফারুক পাড়া, গেসমনি পাড়া, স্যারন পাড়া, চিম্বুক এলাকা, রুমা উপজেলার বেথেল পাড়া, মুনলাই পাড়া, ইডেন রোড, ইডেন পাড়া, লাইরুনপি পাড়া, নাজেরেক পাড়া ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সুয়ানলু পাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাহাড়ী আনারস এখন চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।

বান্দরবানের লাইমি পাড়ার আনারস চাষী পাকসিয়াম বম। তিনি বলেন, পাঁচ একর জমিতে আনারসের চারা গাছ আছে ১৫ হাজার। ফলন ভালো হয়েছে। বাগানের ফল বাজারে বিক্রি করে পরিবারে বাড়তি আয় হয়, এই টাকা দিয়ে সংসার ভালোই চলে।

বান্দরবানের গেসমনি পাড়ার আনারস চাষী জিংলিং বম জানান, এক হাজার আনারস বিক্রি করলে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মত পায়, আর বাগানে এসে পাইকাররা আনারস কিনে ট্রাক অথবা সিএনজি গাড়ি ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর বান্দরবানে ভালো আনারস উৎপাদন হয় এবং বিভিন্ন স্থানের পাইকারী ব্যবসায়ীরা আনারস সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে ভালো লাভ করে।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৪ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে ৮৭ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদন হয়েছিল, এবছরে ৮ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে আনারস চাষাবাদ করা হয়েছে যা থেকে উৎপাদন আশাবাদ করা হচ্ছে ৯২ হাজার ৭৫৮ মেট্রিক টন।

বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো.ওমর ফারুক বলেন, পাহাড়ের জায়গাগুলো ঢালু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমতে পারে না, তাছাড়া পাহাড়ের ঢালুতে আনারস চাষ উপযোগী ও লাভজনক ফসল হওয়ায় এই ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় চাষীরা।

তিনি আরও বলেন, বান্দরবানে জায়ান্টকিউ আনারসের চাষ হয় এবং এই আনারস ৩-৫ কেজি পর্যন্ত হয়। ওজন বেশি, মিষ্টি এবং আকারে বড়। যার কারণে এর চাহিদা সবজায়গায় বেশি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।