বান্দরবানে কুচিয়া মাছ চাষে সাফল্যের সম্ভাবনা

বান্দরবানে নিজের পুকুর থেকে কুচিয়া মাছ সংগ্রহ করছে এক চাষী
বান্দরবান পার্বত্য জেলার পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে-২য় পর্যায় প্রকল্প শুরু হয়। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের যৌথ অর্থায়ন করছে এশিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
জেলা সদর, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলায় ‘মাইক্রো-এগ্রিবিজনেস ডেভেলপমেন্ট কম্পোনেন্ট প্রকল্পের’ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের সংগঠিত করে সব্জী, ফল, ঔষধি গাছ ও মৎস্য এই ৪টি সাব-সেক্টর বাস্তবায়ন করছে প্রকল্পটি। প্রকল্পের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতি উপজেলায় মোট ১০০টি দল গঠন করা হবে। প্রতি দলে এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্যসহ ২০ জন সদস্য নির্বাচন করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে সাব-সেক্টর মৎস্যের অধীনে পার্বত্য জনপদে অতি পরিচিত ও ব্যাপক চাহিদা সম্পন্ন কুচিয়া মাছ চাষ প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বাড়িয়েছে। একইসাথে কুচিয়া মাছ চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলার ৩টি উপজেলায় মোট ৫টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপনের জন্য ৫টি কৃষক দল নির্বাচন করা হয়েছে। প্রদর্শণী প্লট সমূহে গত মার্চ মাস থেকে কুচিয়া মাছের পোনাসহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় উপকরণাদিও দেওয়া হয়েছিল।
এরই অংশ হিসেবে রোয়াংছড়ি উপজেলায় কুচিয়া মাছ চাষের প্রদর্শনী প্লটের জন্য ২টি দল নির্বাচন করা হয়। যার একটি হচ্ছে ওয়াগয় পাড়া ও বটতলী পাড়া মৎস্য উৎপাদনকারী দল। এরমধ্যে ওয়াগয় পাড়ার অরুন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার কুচিয়া মাছ চাষের আগ্রহে প্রকল্প হতে তাকে কুচিয়া মাছ চাষের যাবতীয় সহযোগিতা পেয়ে গত মার্চ মাসে তিনি চাষ শুরু করেন ।
উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী কৃতরঞ্জন তালুকদার জানান, প্রদশনী হিসাবে ১৫ কেজি মাছ ও পুকুরটি তৈরী করে দেওয়া হয়। পুকুরটি তৈরী এবং মাছের মূল্য ও খাবারসহ খরচ হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার টাকা। মাছের খাবার হিসাবে তিনি শামুক, টেলাপিয়া মাছের পোনা ছাড়েন, পুকুর তৈরীর পর অন্যান্য মাছ জম্মালে সেগুলি কুচিয়া মাছের খাবার হয়।
মাছ ছাড়ার ৩ মাসের মাথায় গত মে মাসের শেষের দিকে মা মাছ গুলো ডিম দেয় এবং জুনে তা বাচ্চা হয়। এখন অরুন কান্তির পুকুরে প্রায় ৭০০টি কুচিয়া মাছের বাচ্চা রয়েছে। বড় হলে যার ওজন দাড়াবে প্রায় ২৩০ কেজি এবং বাজার মূল্য হবে প্রায় ৮০,৫০০ টাকা। যাবতীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর অরুন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ৫০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন।
কুচিয়া মাছের বাচ্চা হওয়ার পর তা দেখতে অরুন তঞ্চঙ্গ্যার পুকুরে এখন আশে পাশের গ্রামের লোকজন ভীড় জমান, তার সফলতা দেখে এখন অনেকে কুচিয়া মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজেও আরো লাভের আশায় আরেকটি পুকুরের জায়গা ঠিক করেছেন।
প্রকল্পটি বেসরকারী সংস্থা এগ্রো মেক এর সমন্বয়ে বনশ্রী নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, জুম ফাউন্ডেশন ও প্রোগ্রেসিভ বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।