বান্দরবানে গত জুলাই ও আগষ্ট মাসে ১০ হত্যাকাণ্ড

অপহরণ ১

পাহাড়ের থেমে নেই খুন, হত্যা কিংবা অপহরণ মূলক অপরাধ। পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো তাদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে একের পর এক খুন, হত্যা আর অপহরণ। আর এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে, আওয়ামী লীগ, জেএসএস ও জেএসএস (সংস্কার) এর কর্মীরা। আর এইসব ঘটনায় জেলা জুঁড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতংক। আর এই নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন পাহাড় বার্তা’র গবেষণা সেল এর প্রধান সুহৃদয় তঞ্চঙ্গ্যা।

পাহাড়বার্তা গবেষণা সেল এর তথ্য মতে, গত জুলাই ও আগষ্ট মাসে বান্দরবান জেলায় খুন হয়েছে অন্তত ১০ জন,গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত হয়েছে ৪ জন। অপহরণ করা হয়েছে ১ জনকে।

গত মাসের ২ জুলাই পপি চাষকে কেন্দ্র করে রুমায় দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত দুই ভাই রুমা হ্লাচিং পাড়ার বাসিন্দা থোয়াইবাঅং মার্মা (৪০) ও ক্যসিংথোয়াই মার্মা (৩০)। এই হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ১৬ জন।

অন্যদিকে গত ৭’ই জুলাই বান্দরবান সদর উপজেলা রাজবিলা ইউনিয়নের বাগমারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে ৬ জন, আহত হয়েছে ৩ জন। আহত এবং নিহতরা সবাই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম.এন.লারমা) গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে জানা যায়।

নিহত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এম.এন.লারমা) গ্রুপের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা(৬৮), খাগড়াছড়ির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য চিং থোয়াই মার্মা ডেভিড (৫৬), বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি রতন তঞ্চঙ্গ্যা(৫০), পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির খাগড়াছড়ির সদস্য রিপন ত্রিপুরা জয়(৩৫), জ্ঞান ত্রিপুরা দিপেন(৩২), রবীন্দ্র চাকমা মিলন(৫০)। আহতরা হলেন, নিরু চাকমা, বিদ্যুৎ ত্রিপুরা, মিজ প্রু বাচিং। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন বিদ্যুৎ ত্রিপুরা ও নিরু চাকমা নামের দুই ব্যক্তি।

১১’ই জুলাই রোয়াংছড়িতে সেনা ও সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে শান্তিলতা তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ঐই মৃত মহিলার ৭ বছরের শিশু সন্তান। ১৯ আগষ্ট নাইক্ষ্যংছড়িতে ছাত্রলীগ কর্মী ফরিদকে রহস্যজনক ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৩ জনকে।

২’ই জুলাই বান্দরবান জেলার রুমায় উপজেলায় জেএসএস ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করায় লুল থাং বম(৩০) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছে।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার জেরিন আখতার জানান, গত জুলাই মাসে আলোচিত ৬ ব্যক্তি হত্যাকান্ড মূলত পার্বত্য জেলার আঞ্চলিক সংগঠনগুলো ঘিরে। অবস্থান কিংবা সমরাজ্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও হত্যার মতো এমন ঘটনা ঘটছে। পুলিশের অভিযানে এরমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলমান।

তিনি আরো বলেন, আশা করি খুব দ্রুত আমরা এই রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।