বান্দরবানে ট্রাফিক সপ্তাহ : পুলিশের মামলা-জরিমানা যেন শুধু মোটরবাইকের বিরুদ্ধে !

বান্দরবান ট্রাফিক সপ্তাহ
উপলক্ষ্যে মামলা-জরিমানা করছে পুলিশ
চলমান ট্রাফিক সপ্তাহে বান্দরবান পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকান্ড প্রশংসনীয়, তবে অভিযোগেরও যেন শেষ নেই। জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে লাইসেন্স ও পারমিটবিহীন যানবাহন চেক করে বিভিন্ন মামলা প্রদান করছে, এসময় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় যানবাহনও আটক করছে পুলিশ, একে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানালেও স্থানীয় বাইকারদের অভিযোগ, অভিযানে শুধু মোটরসাইকেল ধরে চেক করছে, জেলায় লাইসেন্স ও ফিটনেস বিহীন অধিকাংশ যানবাহন থাকলেও পুলিশ তা চেক করা থেকে এড়িয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,অভিযানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মোটর সাইকেল চালকের হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া ফিটনেস, রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন যান আটক করা হলেও তা নগন্য। তবে চলমান এই অভিযানে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
বান্দরবানের সদর ট্রাফিক পুলিশ অফিসের টিআই(প্রশাসন) সালাহ উদ্দীন মামুন জানান,বান্দরবানে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এ পর্যন্ত ২শতাধিক যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং ৫০টি যানবাহন আটক করা হয়েছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পুলিশের অভিযানে বান্দরবানে হেলমেট পরা চালক ও আরোহীর সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বান্দরবানের কয়েকটি মোটর পার্টসের দোকানে গিয়ে দেখা যায় হেলমেট পাওয়া যাচ্ছেনা। বান্দরবান স্টেডিয়াম এলাকার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী আতিক জানান, গত কয়েকদিন থেকে হেলমেট বেচাকেনা বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছেনা হেলমেট। এক বছরের বিক্রি কয়েকদিনেই দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে জানান ব্যাবসায়ী আতিক।
এই ব্যাপারে জেলা শহরের বাইকার ওমর ফারুক জিহাদ অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের অভিযান যেন শুধু মোটরবাইকের বিরুদ্ধে, জেলায় শতশত ফিটনেস ও নাম্বার বিহীন গাড়ি থাকলেও তাতে হাত দেয়না পুলিশ।
পুলিশের চলমান এই অভিযানের কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র হালনাগাদ করার হিড়িক পড়েছে। বান্দরবান বিআরটিএ অফিস ঘুরে দেখা যায় কাগজপত্র জমা দেয়ার ভিড় বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েকগুন। এর মধ্যে মোটর সাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্যই ভিড় বেশি।
বিআরটিএ বান্দরবান কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো:ফাহাদ শিকদার বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে আমাদের কাজ । সকাল থেকে রাত নটা পর্যন্ত আমরা কাজ করে যাচ্ছি, আর সারাদিনই শিক্ষানবীশ লাইসেন্স ,ফিটনেস, রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছি।
এদিকে বান্দরবান বিআরটিএর কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের জানুযারী মাস থেকে এই পর্যন্ত ১হাজার ১শত ২২টি শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করার আবেদন ফরম জমা পড়েছে আর গত ৫ আগষ্ট থেকে ১১ আগষ্ট পর্যন্ত জমা পড়েছে ১৮৩টি ফরম ।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা বেসরকারী চাকুরিজীবি রাজীব আহসান জানান, এতোদিন ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিলোনা, গতকাল পুলিশ মামলা দিয়েছে তাই আজ লাইসেন্স করতে এসেছি।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা মাহিন্দ্র চালক আব্দুল্লাহ জানান, ১২ বছর ধরে গাড়ী চালিয়ে আসছি কখনো লাইসেন্স লাগেনি ,কয়েকদিন ধরে পুলিশ বিভিন্নভাবে ধরপাকড় করছে তাই লাইসেন্স করতে আসলাম।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, জনগণ আমাদের এই অভিযানে এখন পর্যন্ত সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, হেলমেট পরার প্রবণতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষণ। জনগণ সচেতন হলে মামলার সংখ্যা বহুলাংশে কমে যাবে ।
প্রসঙ্গত, ঢাকায় বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হবার ঘটনায় দেশজুড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান থাকতেই ট্রাফিক সপ্তাহের ঘোষণা দেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন
2 মন্তব্য
  1. Md Belal Hossain বলেছেন

    সেটাই, রাস্তায় অন্যান্য যানবাহন গুলো নির্ধিদ্বায় চলছে।

  2. অভি মারমা বলেছেন

    সাংবাদিক ভাই অনেক কষ্ট লাগে পুলিশেরা গাড়ি কাগজ পত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে সাধারণ জনগনদেরকে।কিন্তু তাদের মাঝে অনেকে দেখা যায় কোনো গাড়িতে নাম্বার নাই ড্রাইভিং লাইসেন্স তো দুরে কথা। তাদের বিরুদ্ধে কে বা কারা চেক করবে,

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।