বান্দরবানে নদীর চরে বাড়ছে বাদামের আবাদ

বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর চরে বাদাম তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা
বান্দরবানে সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর নদীর চরে দিন দিন বাড়ছে বাদামের চাষ,নদীর এপার-ওপারের চর থেকে বাদাম উত্তোলনে এখন চাষীরা পার করছে ব্যস্ত সময়, কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় স্থানীয় চাষীরা ঝুঁকছে বাদাম চাষে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদর, রুমা,থানচি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা সাংগু ও লামা, আলীকদম উপজেলার উপর বয়ে চলা মাতামুহুরী নদী তীরে এখন শুধু বাদাম তোলার আয়োজন। আর এই বাদাম উত্তোলন করে শুকিয়ে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা।
আরো জানা যায়, প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাদামের বীজ লাগানো হয় আর জানুয়ারি থেকেই এপ্রিল মাস পর্যন্ত ক্ষেত থেকে এই বাদাম তোলা শুরু হয়। বাদামের বীজ লাগানোর আগে হাল চাষ দিয়ে সামান্য নরম করে দিতে হয় মাটি। আর পরিস্কার করতে হয় আগাছা। তারপর সারি সারি করে লাগানো হয় বাদাম বীজ। মাটি উর্বর তাই দিতে হয় না কোন অতিরিক্ত সার কিংবা কীটনাশক, তিন মাসের মধ্যেই পরিপূর্ন বাদাম ফলে তাই অল্প কষ্টে অধিক লাভে খুশি বাদাম চাষীরা।
বান্দরবানের বালাঘাটার ভরাখালীর বাদাম চাষী অংক্যনু মার্মা জানান,প্রতিবারের মত এবারে ও আমরা বাদাম চাষ করেছি, বাদাম চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছি।
বান্দরবানের বাদামের মান ভালো, প্রতি বছর বান্দরবান থেকে কক্সবাজার, চকরিয়া, টেকনাফ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হয়ে যায় জেলায় উৎপাদিত বাদাম। কিন্তুু বাদাম বিক্রি করার জন্য জেলায় কোন বাজারশেড না থাকায় চাষীরা ন্যায্যমুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাদাম চাষীদের দাবি জেলা সদরে একটি বাজারশেড করা হোক ,যাতে প্রত্যেক বাদাম চাষি ন্যায্যমুল্যে তাদের বাদাম বিক্রি করতে পারে এবং স্বাছন্দে জীবন নির্বাহ করতে পারে।
লামার মাতামুহুরী নদীর চম্পাতলী পয়েন্টের চরের বাদাম চাষী মো. আব্দুস সালাম জানায়, এবার ১২০ শতক চরে বাদাম চাষ করেছেন তিনি। তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ তাকে ১৪ কেজি বাদাম বীজ ও রাসায়নিক সার সহায়তা দেয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছর বান্দরবানে ৯৭১ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ২১ মেট্রিক টন বাদাম উৎপাদন হয় ,আর এবছর ৯ শত ৯৯ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়েছে। জেলায় এখন ত্রিদানা,মাইজচর, ঝিঙ্গা,বিনা চীনা বাদাম-৬ ও স্থানীয় জাতের বিভিন্ন বাদামের চাষ হচ্ছে আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় জেলায় বাদাম চাষ সম্প্রসারণের জন্য কৃষকদের বীজ,সার,কীটনাশকসহ নানা ধরনের উপকরণ প্রদান করা হচ্ছে।
জেলার লামার মাতামুহুরীর চরে কিষানী ছাবেরা বেগম বলেন,৩৩ শতক চর জমিতে বাদাম চাষ করেছি, চীনাবাদাম ও বিনা চীনাবাদাম জাতের চাষ করে এবার ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখছি।
বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো:ওমর ফারুক বলেন,সরকারিভাবে বিনামুল্যে বাদাম বীজ,সার ও কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ নানা সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। আগামীতে বাদাম চাষ সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হবে।
অল্প সময় ও স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় জেলার নদীর তীরবর্তী এলাকায় দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষ,তাই কৃষকদের প্রত্যাশা কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত বীজ সরবরাহ, বিনামুল্যে সারের ব্যবস্থার পাশাপাশি বাদাম বিক্রি করে নায্যমুল্য পেতে সহায়তা করা হলে জেলায় বাদামের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে,চরের জমিতে কমবে বিষক্ত তামাকের আবাদ এবং স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাদাম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।