বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত ৬, আহত ৫

বান্দরবানের কালাঘাটা এলাকায় নিহতের লাশ উদ্ধার করছে দমকলকর্মীরা
বান্দরবান জেলা শহরের বালাঘাটা, লেমুঝিড়ি পাড়া ও আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে ৬ নিহত এবং আহত হয়েছে ৫জন। নিহত হলেন, রেবা ত্রিপুরা (২৪), লতা বড়ুয়া (৭), মিতু বড়ুয়া (৫), শুভ বড়ুয়া (৪), কামরুন নাহার (৪০) ও সুপ্রিয়া বেগম (৮)। আহত হলেন পসান ত্রিপুরা (২২), বীর বাহাদুর ত্রিপুরা (১৬) ও দুজাকিন ত্রিপুরা (২৬)সহ আরো দুইজন।
বান্দরবানের বালাঘাটায় এক শিশুর লাশ উদ্ধার করছে দমকলকর্মীরা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বান্দরবান জেলা শহরের বালাঘাটার পুলিশ ক্যাম্প এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় তারা ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন, টানা বর্ষণের কারনে হঠাৎ পাহাড় ধসে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থা রেবা ত্রিপুরা মারা যায়। অন্যদিকে রাতে শহরের লেমুঝিড়িপাড়া ও আগাপাড়ায় অনুরুপ ভাবে পাহাড় ধসে পড়ে আরো ৫জন নিহত ও চারজন আহত হবার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। রেবা ত্রিপুরা বান্দরবান সরকারী কলেজের এবং অন্যরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বলে জানা গেছে।
এই ব্যাপারে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার স্বপন কুমার বোস বলেন, ঘটনার পর আমরা মাটির নিচ থেকে তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।
বান্দরবান সদর উপজেলার লেমুঝিড়ি এলাকায় একই পরিবারের নিহত তিন শিশুর লাশ
বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিবছর পাহাড় ধসে নিহত ও আহত হবার ঘটনা ঘটে, তাই টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে স্থানীয়দের সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জোর প্রচারণা চালানো হয়।
এদিকে জেলার অন্যতম নদী সাঙ্গু নদীতে পানি বাড়ার কারনে সোমবার সকাল থেকে বান্দরবান সদরের মেম্বারপাড়া,মধ্যমপাড়া, ইসলামপুর, বনানীসমিল এলাকা, হাফেজ ঘোনা, আর্মিপাড়া এলাকা ডুবে গেছে। থানচি উপজেলার রেমাক্রি, ছোটমদক ও বড়মদক এলাকায় পর্যটকবাহী নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে, অন্যদিকে নদীটিতে পানি বাড়ার কারনে বান্দরবান জেলা সদরের আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হবার আশংখা করছে স্থানীয়রা। টানা বর্ষণের কারনে সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে এবং পাহাড় ধসে পড়ার কারনে বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
বান্দরবানের কালাঘাটা এলাকায় নিহতের লাশ উদ্ধার করছে দমকলকর্মীরা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের মেঘলা এলাকায় গাছ পড়ে এবং পাহাড় ধসে বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রামের এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের পলুপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ব্রিজ তলিয়ে যাবার কারনে বান্দরবানের সাথে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এই ব্যাপারে বান্দরবান এসআলম পরিবহণ বাস সার্ভিসের ম্যানেজার মো: আইয়ুব বলেন, সড়কে প্রতিবন্ধকতা থাকার কারনে বান্দরবান থেকে কোন গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেনা।

আরও পড়ুন
3 মন্তব্য
  1. Aung Kyaw Sing Marma বলেছেন

    Ei bristyte onek khoy khoti hoyese

  2. U Thein Marma বলেছেন

    কোন জায়গা

  3. Engr Sanjoy Das বলেছেন

    ধসের, মাঝে, জানলার পাশে, বান্দরবানে, আমি,

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।