বান্দরবানে পাহাড় সাবাড় করছেন চৌধুরী সাহেব !

করোনায় ব্যস্ত প্রশাসন

করোনার সংক্রামন রুখতে স্থানীয় প্রশাসন যখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে বড় পাহাড় কেটে সাবাড় করছে চৌধুরী সাহেব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন মন্তব্য জেলার বহুল বিতর্কিত সাবেক এক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে ঘিরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলার বালাঘাটা লেমুঝিড়ির নামার পাড়ার পাশে খামার বাড়িতে ৫ একরের বিশাল পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে বান্দরবানের সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামাল চৌধুরী।

আরো জানা গেছে, জামাল চৌধুরীর নিজস্ব খামার বাড়ির ভিতরে প্রায় পাঁচ একরের উপর বিশাল পাহাড় স্কেভেটর দিয়ে গত ২ সপ্তাহ ধরে কেটে প্রায় পুরো পাহাড় সমতল ভূমিতে পরিণত করেন। আর এর ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশে বসবাস করা অনেক ঘরবাড়ি।

স্থানীয়রা জানায়,করোনা সামাল দিতে যখন প্রশাসনিক অফিস বন্ধ, কর্মকর্তারা ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে জেলার বহুল আলোচিত সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের এ নেতা সরকারী ছুটির ঘোষণার পরের দিনই স্কেভেটর এনে পাহাড় কাটতে শুরু করেন। দিন রাত সমানে পাহাড় কেটে পাঁচ একরের বিশাল পাহাড়টি ইতিমধ্যে কেটে সমভূমিতে পরিণত করেছে। আর এর ফলে আসন্ন বর্ষায় ঝুঁকিতে পড়েছে তাদের বসতঘর।

এই বিষয়ে পাহাড় কাটায় নিয়োজিত স্কেভেটর চালক মোঃ মামুন বলেন, আমার কোন দোষ নেই, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমাকে পাহাড় কাটতে নিয়ে আসে, আমি টাকার বিনিময়ে কেটেছি।

এ বিষয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাড়ির মালিক বলেন, সামনেই আসন্ন বর্ষা, আর এ সময় ঝুঁকিপূর্ণভাবে এমন ভাবে পাহাড় কেটেছে এতে আমার বাড়িটি ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি যেখানে জনগনকে পরিবেশ নিয়ে সচেতন করবে, সেখানে তিনি পরিবেশ ধ্বংস করেন কিভাবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামাল চৌধুরী বলেন, আমি পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে পোল্ট্রি খামার করার অনুমতি নিয়েছি, তাই খামার করতে পাহাড় কেটে সমান করতে হচ্ছে।

বান্দরবানের বালাঘাটার লেমুঝিড়ির নামার পাড়ার পাশে খামার বাড়িতে পাহাড় কাটছেন সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামাল চৌধুরী। ছবি-পাহাড়বার্তা

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ আইন (১৯৫২) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন পাহাড় কাটা যাবেনা বলে বিধান থাকলেও কিন্তু কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে অবাধে পাহাড় কাটা।

বান্দরবান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শামীম হোসেন বলেন, আমি বালাঘাটায় পাহাড় কাটার বিষয়ে জানিনা। এখন জেনেছি, আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

২০১৮ সালে একই এলাকায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত খেয়াং হোস্টেলে যাওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪শ মিটার ইটের সলিং দেওয়া রাস্তা নির্মাণ করলে ১৯ সালের ৭ আগস্ট এ রাস্তা থেকে ইট তুলে নেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামাল চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান এর সহকারী পরিচালক সামিউল আলম কুরসি বলেন, করোনায় সারা বিশ্ব অপরাধ কমলেও, আমাদের দেশের মানুষ করোনার সুযোগে অপরাধ করছে, এই বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

প্রসঙ্গত, জামাল চৌধুরী জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদে যোগ দেন।

আরও পড়ুন
Loading...