বান্দরবানে ফুড অফিসার নেই, আটকে গেছে সাড়ে ১৪ হাজার পরিবারের ত্রাণ কার্যক্রম

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেয়া হয় দুই সপ্তাহের লকডাউন। আর গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে টানা দুই মাস ছিল লকডাউন। সেই লকডাউনে কাজ হারান দিনমজুর। বন্ধ হয়ে যায় দোকাপাট, গণপরিবহন, হোটেল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। আয় রোজগারও বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে বিভিন্ন সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

গতবারের ন্যায় এবারও ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে এসেছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। কর্মহীনদের সেই ত্রাণ সরবরাহের জন্য বান্দরবান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে দেয়া হয় ডিও। কিন্তু সেই ডিও গেছে আটকে। করোনার এই মহামারীর সময়েও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া ওই চাল ছাড় করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ এক মাস যাবত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদটিই খালি, নেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও। আর চাল ছাড়ের অনুমোদন না পাওয়ায় আটকে গেছে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাড়ে ১৪ হাজার পরিবারের ত্রাণ ।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক হীর লাল তঞ্চঙ্গ্যা জানিয়েছেন, জেলা পরিষদ থেকে ১৪৪ টনের একটি ডিও পেয়েছি। কিন্তু জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া গুদাম থেকে ওই পরিমাণ চাল ছাড় দেয়া সম্ভব নয়। এক মাস যাবত খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার পদটি খালি আছে। সাথে খালি আছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদটিও। ওই পদের কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া চাল ছাড় দেয়া যায় না।

তিনি আরো জানান, খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদ খালির বিষয়টি চট্টগ্রাম বিভাগীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ে জানিয়েছি। উনি বিষয়টি হেড কোয়ার্টারে জানিয়েছেন। দ্রুত সময়ে ওই পদে পদায়ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন আমাদের।

এছাড়াও ওই ডিও’র চাল ছাড় করতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধানের অনুমোদন পেতে কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানান খাদ্য পরিদর্শক হীর লাল তঞ্চঙ্গ্যা।

জেলা পরিষদ কার্যাল সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার ৩৪ টি ইউনিয়ন আর ২ টি পৌরসভার সাড়ে ১৪ হাজার পরিবারকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে ত্রাণ। ত্রাণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে এবার দেয়া হবে, ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল ও ১ লিটার তেল ।

আরো জানা যায়, জেলার দুই পৌরসভার প্রতি পৌরসভার ১ হাজার ৮০ কর্মহীন ও দরিদ্র অসহায় পরিবার পাবে ত্রাণ। এছাড়াও জেলার ৩৪ টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়নের ৩৬০ কর্মহীন ও দরিদ্র পরিবার সহ মোট ১২ হাজার ২৪০ পরিবারে পাবে এ ত্রাণ। বিশেষ প্রকল্প কর্মসূচি এবং আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা কর্মসূচি প্রকল্পের মাধমে এ ত্রাণ দেয়া হবে। কিন্তু সেই চাল আটকে গেছে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে।

এদিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা জানিয়েছেন, দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে সব সময় জেলা পরিষদ থাকে। গত বারের মত এবারও আমরা ত্রাণ দিব। দ্রুত চাল ছাড়ের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে ডিও পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে টানা দুই মাস লকডাউন চলে। সেই লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়ে পাহাড়ের হাজারো লোকজন । কর্মহীন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের পাশাপাশি ত্রাণ নিয়ে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ।

সেই সময় বিশেষ প্রকল্প কর্মসূচীর আওতায় জেলার ৫২ হাজার ৩৭১ পরিবারকে দেয়া হয় চাউল। এছাড়াও আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা কর্মসূচির আওতায় ৮ হাজার ৮৭৪ পরিবার, ৭২২টি মসজিদ, ৪১৫ টি বৌদ্ধ বিহার, ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ১৬৬ গণমাধ্যমে কর্মীকে দেয়া হয় সহায়তা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।