বান্দরবানে ফের আওয়ামীলীগ নেতা অপহরণ, আটক ২

আওয়ামীলীগ নেতা ও দৌছড়ি পাড়ার কারবারী মং শৈ থুই মার্মা
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বাগমার ইউনিয়নের ভেতরপাড়া থেকে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা ও পাড়ার কারবারী মং শৈ থুই মার্মাকে (৬৩) অপহরণ করেছে শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংহতি সমিতির রোয়াংছড়ি থানা কমিটির সদস্য ও নোয়াপতং ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য ক্য প্রু মারমাকে এবং কতিথ সাংবাদিক থোয়াইচিং উ মারমাকে নিজ বাড়ি থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,শুক্রবার রাত নয়টার দিকে বাগমার ইউনিয়নের ভেতর পাড়ার নিজ বাসা থেকে স্থানীয় বাথোয় মার্মাকে দিয়ে শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা মং শৈ থুই মার্মাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তারা পাড়ার লোকদের ভাত আনতে বলে সবাইকে চলে যেতে বলে। একপর্যায়ে সবাই চলে গেলে কারবারী মং শৈ থুই মার্মাকে ৪-৫ জনের শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিয়ে যায়।
পাড়া কারবারী মং শৈ থুই মার্মার ছোট বোন মাচথুই মার্মা বলেন, কি কারণে কোন আমার ভাইকে ওরা নিয়ে গেছে আমরা এই ব্যাপারে কিছুই জানিনা।
এদিকে এই ঘটনার পর যৌথবাহিনীর সদস্যরা মং শৈ থুই মার্মাকে উদ্ধারের জন্য ইউনিয়নটির বিভিন্ন স্থানে রাত থেকে অভিযান চালাচ্ছে। রাজবিলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য উবাচিং মার্মা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। রোয়াংছড়িতে ফের অপহরণের এই ঘটনার জন্য স্থানীয় আওয়ামীলীগ জেএসএসকে দায়ী করেছে।
এই ব্যাপারে রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর আলীর সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
গত বছরের ১৩ জুন রাতে জেলার একই উপজেলার জামছড়ির নিজ বাসা থেকে অপহৃত হন সদর উপজেলা আওয়ামীলী লীগ সদস্য মং পু মারমা। এই ঘটনার পর বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস) ও আওয়ামীলীগের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়, জেলায় হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচী পালন করে জেলা আওয়ামীলীগ।
মং পু মারমাকে অপহরণে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, এর পর থেকে জেএসএস শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে। ফের আওয়ামীলীগ নেতা অপহরণের ঘটনায় জেলার রাজনীতিতে জেএসএস ও আওয়ামীলীগের মধ্যে বিরোধ ফের চাঙ্গা হতে পারে এমন মত স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।