বান্দরবানে বাড়ছে আত্মহত্যার সংখ্যা : এগিয়ে লামা উপজেলা

গত দুই মাসে আত্মহত্যা করেছে ৬ জন

পারিবারিক বিরোধ, স্বামী স্ত্রীর মনমালিন্য, ভুল বুঝাবুঝি কিংবা মান অভিমান নিয়ে বান্দরবান জেলায় বাড়ছে আত্মহত্যার সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল বোঝাবুঝি এবং পারিবারিক সমস্যার কারণে আবেগ প্রবণ হয়ে আত্মহননের অধিকাংশ ঘটনা ঘটছে। আর এ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরী করেছেন পাহাড়বার্তা’র গবেষণা সেল এর প্রধান সুহৃদয় তঞ্চঙ্গ্যা।

পাহাড় বার্তা’র গবেষণা সেল এর তথ্য অনুসারে দেখা যায়, গত জুন এবং জুলাই মাসের অধিকাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায়।

জরিপে দেখা যায়, গত ১১’ই জুন জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে মাঈন উদ্দিন নামে একজন বিষপান করে। ১৮’ই জুন লামায় পারিবারিক সমস্যার কারনে রুবি আক্তার নামে একজন আত্মহত্যা করে।গত ১৫ জুন গরু চোরের অপবাদ দেওয়ায় লামাতে কোরবান আলী নামে একজনের আত্মহত্যা চেষ্টা করে। একই উপজেলায় সরই ইউনিয়নের ২৯’শে জুন জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় রুবিনা আক্তার নামে এক স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করে। সে সরই উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছিলেন।

জুলাই মাসের তথ্য অনুসারে দেখা যায়,গত ১২ জুলাই পারিবারিক বিরোধের জের ধরে লামায় রুপসী পাড়া ইউনিয়নে মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা মৃত শহীদ কারবারি মেয়ে বিলকিছ আক্তার (১৯) নামে একজন গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

আলীকদম হাসপাতালের ডা.মোঃ মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী (ভারপ্রাপ্ত) জানান, আত্মহত্যা প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে ২৫ বছর বয়সের নিচে থাকা মানুষদের। সাংসারিক বিরোধ, প্রেম সংক্রান্ত সমস্যা, মান অভিমান নিয়ে অধিকাংশ আত্মহত্যা ঘটে যাচ্ছে। তবে আগের মতো যৌতুক কিংবা জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আত্মহত্যার প্রবণতা আগের চেয়ে কমে গেছে।

আরো জানা গেছে, জেলার আলীকদম উপজেলায় গত ২৩ জুলাই মায়ের বকাঝকা ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় অভিমান করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে অর্ণব কর্মকার(০৯) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্র আত্মহত্যা করে। গত ৩০ জুলাই আলীকদম উপজেলায় ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শিবাতলী পাড়ায় সুমি আক্তার প্রকাশ নুরুন্নাহার নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা যায়।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল জানান, আত্মহত্যাকারী অধিকাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। কিশোর কিশোরীরা এই ক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে রয়েছে। অনেকে প্রেম সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা বাবা মায়ের সাথে অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। কিশোর কিশোরীদের সভা সেমিনার কিংবা ট্রেনিং করালে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। তাছাড়া অভিভাবকদের এই বিষয়টা নিয়ে সচেতন হওয়া বেশি জরুরী।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।