বান্দরবানে বাড়ছে নিষিদ্ধ পপির আবাদ

বান্দরবানের দূর্গম এলাকাগুলোতে আগের যে কোন বছরের তুলনায় এবছর নিষিদ্ধ পপি চাষ বাড়ছে। চলতি বছরে জেলার রুমা উপজেলার দূর্গম এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ একর পপি ক্ষেত ধ্বংস করা হলেও জেলার থানচি ও আলীকদম উপজেলার দূর্গম এলাকায় পপি ক্ষেত ধ্বংস করতে কোন উদ্দ্যেগ গ্রহন করা হয়নি। পাহাড়বার্তা’র রুমা উপজেলার বিশেষ প্রতিনিধি শৈহ্লাচিং মার্মা ও থানচি প্রতিনিধি অনুপম মার্মা’র তথ্যের ভিত্তিতে এস বাসু দাশ এর বিশেষ প্রতিবেদন।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে,গত মঙ্গলবার ভোর থেকে রুমা জোন (২৭ ইবি) এর ক্যাপ্টেন মোঃ আশিকুর রহমান এর নেতৃত্বে একটি স্পেশাল যৌথ বাহিনীর টহল দল রুমার সাইকট পাড়া ও খুলেন খুমি পাড়ার পাশে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১০ একর জায়গার উপর চাষ করা ১২ টি পপি ক্ষেত ধ্বংস করা হয়। এসময় একটি জুম ঘরে থাকা বিপুল পরিমান পপির বীজ উদ্ধার ও ধ্বংস করা হয়। যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পপি চাষিরা পালিয়ে যায়।

রুমা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ গোলাম আকবর পিএসসি, বলেন, পপি চাষ হচ্ছে একটি বিষাক্ত নেশা জাতীয় গাছ, যা থেকে আফিম ও হিরোইন তৈরি করা হয়। তাই রুমার যেখানেই চাষ করা হোক না কেনো ভবিষ্যতে এর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরো জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি জেলার রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পাহাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪টি পপি ক্ষেত ধ্বংস ও প্রায় ৬০ কেজি পপির রস উদ্ধার করে র‌্যাব-৭। গত ২৮ জানুয়ারি ম্রোক্ষিয়াং ঝিড়ি এলাকায় ৫ একর পপি ক্ষেত ধ্বংস করেছে সেনাবাহিনী। এই ঘটনায় পেইন খুমি (৩৫) নামের এক পপি চাষীকে আটক করা হয়। ৩১ জানুয়ারি তংগ্রী পাড়া ও শৈরাতাং পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ১ একর জমি উপর করা ৩টি পপি ক্ষেত ধ্বংস ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ একই উপজেলায় ১০ একর পপি বাগান ধ্বংস করে যৌথ বাহিনী। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ১ একর পপি ক্ষেত ধ্বংস করে সেনাবাহিনী।

রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান উহ্লাচিং মারমা বলেন,নিষিদ্ধ পপি চাষে নিরুৎসাহিত করতে কয়েকদিনের মধ্যে পাড়া প্রধানদের ডেকে মিটিং করে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।

পপি ফুলের গাছ থেকে যেমন ওষুধ তৈরির নানা উপাদান পাওয়া যায়,তেমনি এ গাছের ফল থেকেই তৈরি হয় সর্বনাশা মাদক “আফিম ও হেরোইন”। পপি গাছের কাঁচা ফলের খোসা কাটলে যে সাদা রস পাওয়া যায় তা ২৪ ঘণ্টা রোদে শুকালে পাওয়া যায় মরন নেশা আফিম।

স্থানীয়দের সূত্র মতে,রুমা উপজেলার ৩৫৩ নং কোলাদি মৌজায় নাইতং পাড়ার ক্যংম্রো ঝিরিতে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি স্থানে ১০ শতক, ৫ শতক করে পপি চাষ করা হয়েছে। তবে এসব এলাকায় এখনও অভিযানের কোন খবর পাওয়া যায়নি। জেলার আলীকদম উপজেলার পোয়ামুহুরী ও থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী মুরুক্ষ্যং ঝিরি এলাকায় স্থানীয় পাহাড়িদের সহযোগিতায় নিষিদ্ধ পপি (আফিম) চাষ করছে মিয়ানমারের শসস্ত্র সংগঠন আরকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) ও আরকান আর্মি (এএ)। পপির রস সংগ্রহ করে তারা মিয়ানমারে পাচার করে। মিয়ানমারের সরকারের বিরুদ্ধে শসস্ত্র সংগ্রামকারী সংগঠনগুলোর অর্থের বড় উৎস এই পপি চাষ।

রুমা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানে রুমায় একের পর এক পপি ক্ষেত খুঁজে পাওয়ায় খোদ স্থানীয়রা বিস্ময় প্রকাশ করেছে। পাহাড়ের পপি চাষিদের পপি চাষ পরিহার করে আয়বর্ধনমূলক কি কাজে উৎসাহ করানো যায়, তা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি’র সাথে কথা বলে উন্নয়ন মুলক উদ্যোগ গ্রহন করা হবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শামসুল আলন, আমরা মাসিক মিটিং -এ পপি চাষ না করার জন্য বলি, জনপ্রতিনিধিদেরও নির্দেশনা দেওয়া আছে, তারপরও যারা পপি চাষ করছেন তারা অবশ্যয় আইনের আওতায় আসবে।

প্রসঙ্গত, বান্দরবানের রুমা, থানচি ও আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন দূর্গম এলাকায় সীমান্ত অরক্ষিত থাকার কারনে মিয়ানমারের বিভিন্ন বিদ্রোহী শসস্ত্র গোষ্ঠি পপি চাষ করে থাকে। আর পপি থেকে মাদক আফিম তৈরী করে বিভিন্ন দেশে পাচার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।