বান্দরবানে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা দখল করলেন ভূমি কর্মকর্তা

বান্দরবান সদরে এবার ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা দখল করলেন সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা তাসনীন জাহান। শুধু তাই নয়, খতিয়ান ভুক্ত মালিকানাধীন জায়গাকে তিনি খাস হিসাবে দাবী করে নিজের ভূমি অফিসের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসাবে দেখিয়ে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়ে জায়গার মালিকদের বাধা প্রদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮১ সালে ৩ ডি সেট মৌজা মূলে জেলা সদরের ৩১৩ নং মৌজায় সরকারী কর্মচারী সৈয়দ মোজাফরকে ৫০ শতক জায়গা বন্দোবস্তি প্রদান করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। এর ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের তৎকালীন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসেন স্বাক্ষরিত খতিয়ান মূলে জানা যায়, ১৬৯ হোল্ডিং এর বন্দোবস্তি প্রাপ্ত সেই জায়গার মালিক মোজাফর ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি মোস্তফা মিনহাজকে ৪০ শতক ও সদর উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত জারিকারক সন্তোষ দাশ’কে ১০ শতক জায়গা বিক্রি করেন।

এই ব্যাপারে সদর উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত জারিকারক সন্তোষ দাশ বলেন, সেখানে আমার নামেও ১০ শতক জায়গা আছে।

আরো জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট মোস্তফা মিনহাজ তার নামীয় ৪০ শতক জায়গা থেকে কামাল হোসেন ও মো: জসিমকে ১০ শতক করে ২০ শতক জায়গা বিক্রি করেন। হোল্ডিং এর সিরিয়াল অনুসারে প্রথমে আবু ছাফা ১৬৮ হোল্ডিং, দ্বিতীয়’তে সৈয়দ মোজাফর ১৬৯ হোল্ডিং ও তৃতীয়’তে আইয়ুব চৌধুরীর ১৭০ হোল্ডিং ঠিক থাকলেও ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ মোজাফর এর মধ্যবর্তী ১৬৯ হোল্ডিং এর জায়গাটি খাস দেখিয়ে গত ২ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা তাসনীন জাহান খাস খতিয়ান ভুক্ত জায়গা দাবি করে উপজেলা ‘ভূমি অফিসের জন্য নির্ধারিত স্থান’ উল্ল্যেখ করে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেন।

১৬৯ হোল্ডিং এর জায়গার বর্তমানে ২০ শতক জায়গার মালিক মোস্তফা মিনহাজ বলেন, আমার খতিয়ানভুক্ত জায়গা দিনদুপুরে আইন বহির্ভূত ভাবে খাস দাবি করে ভূমি অফিসের জন্য দখল করেছে, ভূমি কর্মকর্তা, এটা অন্যায়ের বিচার কে করবে?

আরো জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি উক্ত জায়গা পরিমাপ করে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মোস্তফা মিনহাজ জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি এর কাজে একটি আবেদন করলেও সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুগো মো: দিদারুল আলম ও সার্ভেয়ার সুনিল রঞ্জন চাকমা’র যোগসাজসে ভূমি কর্মকর্তা আইন বহির্ভূত ভূমি দখলের কাজটি সম্পাদন করেন।

১৬৯ হোল্ডিং এর অপর ১০ শতক জায়গার মালিক মো: জসিম বলেন, কোন প্রকার কাগজপত্র না দেখে, নোটিশ না দিয়ে একজন ভূমি কর্মকর্তা একটি জায়গাকে কিভাবে খাস জমি দাবি করে দখল করতে পারে? তিনি আরো বলেন, আমার ১০ শতক ও কামাল হোসেনের ১০ শতকসহ মোট ২০ শতক জায়গা সাদেক হোসেন চৌধুরীকে বিক্রি করেছি, এর বায়নানামাও সম্পাদন হয়েছে।

আরো জানা গেছে, সরকারী নিয়ম অনুসারে যে কোন ভূমি পরিমাপের সময় উক্ত ভূমির আশেপাশের জায়গার মালিকদের উপস্থিত থাকার জন্য পূর্বে নোটিশ প্রদানের নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে ভূমি কর্মকর্তা কাউকে অফিসিয়ালি নোটিশ প্রদান না করেই উক্ত জায়গা একাধিকবার পরিমাপ করে এবং খাস জায়গা দাবি করে ভূমি অফিসের জন্য নির্ধারিত স্থান এর সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেন।

এই ব্যাপারে বান্দরবান সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার তাসনীন জাহান বলেন, আমাদের ভূমি অফিস করার জন্য জায়গা প্রয়োজন, তাই সেখানে অফিসের জন্য সাইনবোর্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

🔴➢ আগামীকাল পড়ুন :- বান্দরবানে ভূমি অফিসের নামে একাধিক জায়গা দখল।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।