বান্দরবানে ভালো ফলনে খুশি কৃষকরা

সবজির পরিচর্যা ও উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছে বান্দরবানের কৃষকরা
বান্দরবানের পাহাড়ে পাহাড়ে আর সাংগু নদীর চরে উৎপাদিত হচ্ছে নানারকম শাক-সবজি। একসময় পার্বত্য এলাকায় কৃষকেরা শুধু তামাক চাষ করে জীবনধারণ করতো, আর এখন রবি শস্য ও বিভিন্ন রকম শাকসবজি উৎপাদন আর বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করছে অসংখ্য কৃষক পরিবার।
বর্তমানে কৃষকরা সবজির পরিচর্যা ও উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছে। এখন বান্দরবানে শুধুমাত্র সমতল ভ‚মিতে নয়,পাহাড়ের গায়ে এবং সাঙ্গু, মাতামূহুরী ও বাকখালী নদীর দু’পাড়ে চাষ করছে বাঁধাকপি, ফুলকপি, আলু, মুলা, বেগুন, করলা, সিম, লাউ, গাঁজর, টমেটো, সরিষা, চীনাবাদাম, ভুট্টা, এবং লাউশাক, মুলাশাক, লালশাক, পালংশাক, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন শাক-সবজি, আর এসব সবজির ফলন ও হচ্ছে বেশ ভালো আর বিক্রি করে ভাল দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা।
বান্দরবানের বালাঘাটার ভরাখালীর সবজি চাষী নুর মোহাম্মদ জানান, একসময় শুধু একরকম ফসল উৎপাদন করতাম আর এখন বাঁধাকপি, ফুলকপি, আলু, মুলা, বেগুন, করলা, সিম, লাউ, গাঁজর, টমেটো, সরিষা, চীনাবাদাম, ভুট্টা, এবং লাউশাক, মুলাশাক, লালশাক, পালংশাক, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন শাক-সবজি উৎপাদন করছি আর পরিবার নিয়ে বেশ ভালো আছি ।
বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নের বাদাম চাষী নু প্রু মং জানান, তামাক ক্ষেত করতাম অনেক লাভ হত কিন্তুু সময়ের পরিবর্তনের এখন বাদাম চাষ করী এতে কষ্ট কম লাভ বেশি আর স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হয় না।
রেইচার এলাকার সবজি চাষী মো:নুর মোহাম্মদ জানান, আমরা এখন বার মাসই কিছু না কিছু উৎপাদন করে থাকি। স্থানীয় জৈব সার দিয়ে ফসল উৎপাদন করি আর ফলগুলো ও পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হয় ।
বান্দরবান কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, বান্দরবানে বর্তমানে ৭হাজার ৫’শত ৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন শাক-সবজি,আর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা। কৃষকদের সার বীজ কীটনাশকসহ যাবতীয় কৃষিতথ্য পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। কৃষি কর্মকর্তারা জানান , পার্বত্য এলাকায় শুধু তামাক চাষ করে কৃষকেরা জীবিকা নির্বাহ করলে ও বর্তমানে কৃষি অফিসের সহায়তায় অনেক কৃষকই তামাক বাদ দিয়ে নানারকম শাক সবজি উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা অংবাই মারমা বলেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে শুধু একসময় তামাক চাষই বেশি ছিল কিন্তু বর্তমানে কৃষি বিভাগের সহায়তায় আখ,কমলা ও বিভিন্ন রবি শস্য উৎপাদন হচ্ছে।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো:আলতাফ হোসেন জানান, বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহায়তায় কৃষকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সার বীজ কীটনাশকসহ যাবতীয় কৃষিতথ্য পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছি । বিভিন্ন সময় বিনামুল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষকদের ফসল উৎপাদন ও রোগ বালাই মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করছি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।