বান্দরবানে ভুয়া আইডি চালানোর সন্দেহে শওকত’কে জিজ্ঞাসাবাদ করলো পুলিশ

বান্দরবানের বহুল আলোচিত সেই শওকত হোসেন রাব্বিকে ভুয়া আইডি চালানোর সন্দেহে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে সে নিজেই থানায় হাজির হলে পুলিশ তাকে সাময়িক আটক করে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে, আর এই তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবান পৌর মেয়রের নাম ব্যবহার করে হঠাৎ কোটিপতি বনে যাওয়া আলোচিত শওকত হোসেন রাব্বি। জেলার এই আলোচিত তরুণ নিজের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে মুজিব সেনা নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, মন্ত্রী পুত্র, কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা রবিন বাহাদুর, জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান রাশেদ, ঠিকাদার জসিম উদ্দিন, জুয়েল, ইসরাত আরমিন সহ অনেকের নামে কুরুচিপূর্ণ লেখা লিখে ফেসবুক আইডিটিতে পোস্ট করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে মুজিব সেনা আইডিটি তার নয় এবং সেই আইডিতে ব্যবহার করা মোবাইল নাম্বারটিও তার নয়, দাবি করে শওকত হোসেন রাব্বি বান্দরবান সদর থানায় গত ৩ নভেম্বর একটি সাধারণ ডাইরি করে। তিনি আরো দাবী করেন, এই আইডি থেকে বান্দরবানের বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তিনিও এর প্রতিকার চান।

আরো জানা গেছে, মাত্র ৫ বছর আগে বান্দরবান বাজারের একটি স্টেশনারী দোকান ও চায়ের দোকানের কর্মচারী ছিলেন শওকত হোসেন রাব্বি। বান্দরবানের স্থায়ী বাসিন্দা বা জেলা আওয়ামী লীগের কোন সহযোগী সংগঠনের কর্মী না হয়েও পৌর মেয়র ইসলাম বেবী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আর মেয়রের নাম বিক্রি করে ঠিকাদারী ব্যবসা,শহরের বনানী স-মিল এলাকার ইউকেচিং সড়কের পাশে সাবেক ছাত্রনেতা শেখ সাদীর পারিবারিক ভূমি দখল করতে হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন সাধারণ মানুষকে হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসে এই তরুণ তুর্কি।

পৌর মেয়রের সহযোগিতায় আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে ঠিকাদারী কাজ করেন, জেলা শহরের বিভিন্ন রুটে রয়েছে তার একাধিক সিএনজি ও মাহেন্দ্র গাড়ি। আর অল্পদিনেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া রাব্বি ৬ মাস পর পর নিত্যনতুন মোটর সাইকেল বদলানো আর নিয়মিত বিমানে চট্টগ্রাম-ঢাকা চলাফেরার কারনে অনেকের মনে প্রশ্ন, এক সময়ের চায়ের দোকানের কর্মচারী হঠাৎ এতো বিত্ত ভৈরবের মালিক বনে গেলেন কিভাবে? আর কার আশীর্বাদে?

এই ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম পাহাড়বার্তাকে বলেন, আমরা ভুয়া আইডি চালানোর বিষয় নিয়ে শওকত হোসেন রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি, প্রমান পাওয়া গেলে তাকে আটক দেখানো হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।