বান্দরবানে শীমের ভালো ফলন : ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ চাষীরা

বান্দরবানে শীমের আবাদ
বান্দরবানে এবার শীমের ভালো ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন পাহাড়ের ঢালু আর বিস্তীর্ণ জমিতে দেখা যায় শীমের আবাদ। কিন্তুু কৃষি পণ্যের দাম বৃদ্ধি আর মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক কৃষক।
জেলা সদরের রেইচা,ক্যামলং,লাঙ্গিপাড়া,মাঝের পাড়া,সুয়ালকসহ বিভিন্ন স্থানে এখন কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছে জমি থেকে শীম উত্তোলনে। এবছর বান্দরবানে দেশী ও সীতাকুন্ডের শীম বেশি আবাদ হয়েছে ।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, বাংলা ভাদ্র মাস থেকে শীম চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেন চাষীরা। জমিতে বীজ বপন করা হয় কার্তিকে। এর ২১ থেকে ২৫দিনের মধ্যেই গাছ লতায় লতায় ছেয়ে যায় চারদিক। এসময় শীম গাছের বেগুনী রঙের ফুলে ফুলে অপরূপ সৌর্ন্দয্য দৃষ্টি কেড়ে নেয় সকলের। আর শীমের উৎপাদন দেখে কৃষকেরা খুশি হয় অনেকটা। প্রতিবারের মত এবারে ও শীমের উৎপাদন ভালো হওয়ায় খুশি শীম চাষিরা।
বান্দরবানের রেইচা এলাকার কৃষক মো:আবুল বশর জানান, শীম দেখে আমার মন জুঁড়ে যায়। গত বছর ভালো উৎপাদন হয়েছিল ভালো দাম পেলাম কিন্তুু এবার ভালো উৎপাদন হলে ও দাম কম। প্রতি মন বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬শ টাকায় ।
এদিকে শীমের ভালো উৎপাদন হলে ও দিন দিন কৃষিপণ্যের দাম বৃদ্ধি আর মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক কৃষক। লাভের আশায় ব্যাংক ও মহাজন থেকে ঋন নিয়ে শীম রোপন করলে ও শীমের বাজারদর ঠিকমত না পাওয়া আর দিন দিন কৃষিপণ্যের মুল্য বৃদ্ধি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকেরা।
বান্দরবানের রেইচা এলাকার কৃষক আবু মং মার্মা জানান, গত বছর শীমে মন প্রতি দাম ছিল ১২০০ টাকা ,আর এ বছর মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। আমরা শীম চাষ করতে যে টাকা খরচ করেছি তা উঠে আসবে না।
আরো জানা গেছে, প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের এলাকায় পাইকারী ব্যবসায়ীরা ছুটে আসতো ,আর ন্যায্যদামে শীম ক্রয় করতো । কিন্তুু এবার পাইকারী শীম ক্রেতারা একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। এই সিন্ডিকেটে ৩০-৩৫ জন পাইকারী ব্যাবসায়ী একত্রিত হয়েছে এবং কৌশলে কম দামে শীম ক্রয় করে বেশি দামে তারা দেশের নানান প্রান্তে সরবরাহ করছে ।
কৃষি বিভাগ জানায় ,গত বছরের চেয়ে এবছর সীম উৎপাদন বেড়েছে অনেকটা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৫৫ হেক্টর জমিতে শীমের আবাদের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ৭ হাজার ৯শত ৫৪ মেট্টিকটন। এবার ৬০০ হেক্টর জমিতে শীমের আবাদ হয়েছে আর এর বিপরীতে প্রায় ৯ হাজার মেট্টিকটন শীম উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
উপ-পরিচালক মো:আলতাফ হোসেন আরো বলেন, অল্প পূজিঁতে অধিক লাভ বলে কৃষক দিন দিন এই শীম চাষে ঝুঁকছে। কিছু পাইকারী অসাধু ব্যাবসায়ী একত্রিত হয়েছে এবং কৌশলে কম দামে কৃষকের কাছ থেকে শীম ক্রয় করে বেশি দামে তারা দেশের নানান প্রান্তে সরবরাহ করছে,তবে আমরা কৃষি বিভাগ ও বসে নেই।
কৃষকেরা জানান শীম চাষে সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে ঋন প্রদান, কৃষি পন্যের দাম স্থিতিশীল রাখা ও মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো হলে অনেক চাষীই এই শীম উৎপাদনে নেমে পড়বে, ফলে একদিকে খাদ্যাভাব লাঘব হবে, অন্যদিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠবে দেশ ।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।