বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন মুফিদুল আলম

মুফিদুল আলম
সরকারের উপসচিব মুফিদুল আলম বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত বুধবার ২৬ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের প্রেষন -১ অধিশাখার ৮৮৮ নং স্মারকে উপসচিব মোঃ মুহাম্মদ আবদুল লতিফের স্বাক্ষরে জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপন মূলে মুফিদুল আলমকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এজন্য মুফিদুল আলমের চাকরী একই আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে মুফিদুল আলম জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের গত ২৩ ডিসেম্বরের এক আদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে জুজিশিয়াল দায়িত্ব পালনরত থাকায় নির্বাচন শেষে তাঁকে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। মুফিদুল আলম বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপ সচিব) হিসাবে কর্মরত আছেন। তাঁর আগে মুফিদুল আলম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাসির উদ্দীনের একান্ত সচিব (পিএস)হিসাবে কর্মরত ছিলেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাসির উদ্দিন একজন সৎ, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসাবে তৎকালীন জনপ্রশাসন সচিবকে অভিপ্রায় পত্র দিয়ে মুফিদুল আলমকে একান্ত সচিব হিসাবে নিয়োগ নিয়েছিলেন।
২৪ তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা মুফিদুল আলম কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা গ্রামের মরহুম রশিদ আহমদ ও লুলু মরজানের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ হতে মেধা তালিকায় ৪র্থ স্থান অধিকার করে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে এম.বি.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২৪তম বিসিএস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগ দেন। চাকুরী জীবনে মুফিদুল আলম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসাবে সন্দীপ, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পানছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবং বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট(এডিএম) হিসাবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
মুফিদুল আলম প্রশাসন ক্যাডারে চাকুরীরত অবস্থায় যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত বেডফোর্ড শায়ার ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রিসোর্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। কক্সবাজারবাসীর গৌরব মুফিদুল আলম এর ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে ২য় ভাই খোরশেদ আলম একটি প্রাইভেট ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ৩য় ভাই একটি বেসরকারি কলেজের প্রভাষক ও কনিষ্ঠ ভাই সোহরাব হোসেন (বাপ্পী) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তা মুফিদুল আলম ২০০৫ সালে কক্সবাজার পৌরসভার উত্তর তারাবনিয়ার ছরার ঐতিহ্যবাহী মিয়াজি পরিবারের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ ও হাসিনা মমতাজ জোস্না’র জ্যেষ্ঠ কন্যা সাদিয়া আমিন রিপা’র সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কক্সবাজারের কৃতি সন্তান মুফিদুল আলমের মেঝ ভায়রা ভাই কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এপিপি এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ ও কনিষ্ঠ ভায়রা ভাই মোঃ হেলাল উদ্দিন চট্টগ্রাম জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে চাকুরীরত। ব্যক্তিগত জীবনে মুফিদুল আলম সামিন, সাদিক নামক ২ পুত্র ও সাবিহা নামক ১ কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।