বান্দরবান বাজারে দেশি-বিদেশি আমের সমাহার

বান্দরবানে দিন দিন বাড়ছে আমের আবাদ। একসময় শুধু দেশী আমের চাষ হলেও এখন বিভিন্ন উপজেলায় হচ্ছে বিদেশী জাতের আম। এদিকে সুস্বাদু আর নানা রংবেরং এর আম দেখে মুগ্ধ চাষীদের পাশাপাশি ক্রেতারা।

সরেজমিনে বান্দরবানের বিভিন্নস্থানে ঘুরে দেখা যায় দেশি-বিদেশি আমে জমজমাট হয়ে গেছে বান্দরবান বাজার। বাজারের বিভিন্ন স্থানে এখন বিক্রি হচ্ছে দেশি জাতের রুপালি (আম্রপালি), রাংগোয়াই আর বিদেশি জাতের আম মিয়াজাকি, কাটিমন, কিউজাই, বুনাই কিং, ব্যানানা, রেডফার্মাসহ বিভিন্ন ধরনের আম।
জেলা সদরের বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, আকার ভেদে রুপালি আর রাংগোয়াই ৬০-১০০ টাকা কেজি দরে আর বিদেশি জাতের আম রেডফার্মা ৩০০ টাকা, ব্যানানা ২০০টাকা, কিউজাই ১৮০টাকা, রেডকুইন ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জেলা সদরের পাইকারি ফল ব্যবসায়ী মো.ইয়িলাস জানান, জেলার পাহাড়ে এখন জন্মাচ্ছে টসটসে দেশি-বিদেশি আম। এই বছর আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু, ড্রাগন ফলের ভালো ফলন হয়েছে বান্দরবানে। স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে এখন তাল, লিচু, আনারস, কাঁঠালের পাশাপাশি প্রচুর দেশি-বিদেশি আম পাওয়া যাচ্ছে আর দামও ক্রেতার হাতের নাগালে।

তিনি আরও জানান, এখানে উৎপাদিত ফলগুলো ফরমালিনমুক্ত আর তাই বাজারের পাশাপাশি বান্দরবানের উৎপাদিত ফলগুলো কেরানীহাট, আমিরাবাদ, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে সহজেই।

ফল ব্যবসায়ী মো.ইলিলাস আরো জানান,এক সময় বান্দরবানে শুধু দেশী আম পাওয়া যেত, কিন্তু এখন বিদেশী বিভিন্ন জাত উৎপাদন হচ্ছে আর তা স্থানীয় বাজারে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে।

বান্দরবান বাজারের আম বিক্রেতা মো.আফনানুর রহমান বলেন, রুমা উপজেলা ও চিম্বুক পাহাড় থেকে প্রচুর বিদেশী আম পাইকারী ক্রয় করে জেলা সদরে নিয়ে এসেছি এবং তা জেলা সদরের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছি।

NewsDetails_03

আম বিক্রেতা মো.আফনানুর রহমান আরো বলেন, বান্দরবানের আম খুবই স্বাদ আর ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি পর্যটকরাও বেশী পছন্দ করে, এই ফলের মৌসুমে আমরা ভালো লাভ করতে পারি।

বাজারে আম কিনতে আসা মো.জয়নাল বলেন, বান্দরবান বাজারে বিভিন্ন মৌসুমি ফল পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে আমের বিভিন্ন জাত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এখন বিভিন্ন মৌসুমী ফল বান্দরবানে পাওয়া যাচ্ছে আর তার মধ্যে বিদেশী নানাজাতের আমের চাহিদা বাড়ছে ক্রেতাদের কাছে।

বিদেশী জাতের আম ক্রয় করা ক্রেতা মো.শাহাবউদ্দিন সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, পাহাড়ে প্রতিটিই ফলই সুমিষ্ট হয় আর পাহাড়ে বিদেশী জাতের আম উৎপাদন হয়েছে আর কম দামে তা কিনতে পারা আমাদের জন্য স্বপ্নের মতন। বিদেশি জাতের আম ব্যানানা, রেডফার্মা কয়েকটা জাত কিনেছি এবং স্বাদ অতুলনীয়।

তিনি আরো বলেন, সরকারী বেসরকারীভাবে যদি পাহাড়ে আরো সহযোগিতা বাড়ানো হয় তবে বান্দরবান থেকে প্রচুর দেশী-বিদেশী আম দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানের ৭ উপজেলার প্রচুর ফল উৎপাদন হয় আর জেলার রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাশাপাশি জেলা সদরের চিম্বুক এলাকায় প্রচুর আম উৎপাদন হয়। বান্দরবানে প্রচুর ফল উৎপাদন হয় আর এই জেলার দেশি-বিদেশি আমের পাশাপাশি ফলের চাহিদা সারাদেশে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিচালক কৃষিবিদ এম,এম ,শাহ্ নেয়াজ জানান, বান্দরবানে এ মৌসুমে প্রচুর আম উৎপাদন হয় আর দেশি জাতের পাশাপাশি বিদেশি জাতের আম চাষ করে বান্দরবানের চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিচালক কৃষিবিদ এম,এম ,শাহ্ নেয়াজ আরো জানান, বান্দরবানে ৬০ শতাংশ দেশী জাতের রাংগোয়াই আম, ৩০ শতাংশ আম রূপালী ও অন্যান্য জাতের ১০শতাংশ (বিদেশী) আমের আবাদ হয়ে থাকে, আর আম বিক্রি করেই এলাকায় অনেক চাষীই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

আরও পড়ুন