বিশ্বস্ততার পুরস্কার পেলেন বীর বাহাদুর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হওয়ায় এই মন্ত্রণালয়টি বরাবরের মতোই প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যাস্ত ছিল। একজন দক্ষ রাজনৈতিক ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বাস অর্জন করতে পারায় পুরস্কার হিসেবে পুর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।
স্বাধীনতার পর থেকে বান্দরবান ৩০০ নং সংসদীয় আসন থেকে এ পর্যন্ত কেউ পুর্ণাঙ্গ কেবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেনি। বীর বাহাদুরই প্রথম বান্দরবান থেকে পুর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর স্বাদ পেলেন। তবে স্বাধীনতার আগে ৬০ এর দশকে সেচ ও পানি সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত ১৪তম বোমাং রাজা মং শৈ প্রু চৌধুরী। স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ৭৭ সালে কেবিনেটের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত অং শৈ প্রু চৌধুরী (স্বাধীনতা বিরোধী)। এরশাদের শাসনামলে বোমাং রাজা মং শৈ প্রু চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে বান্দরবানের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে স্বাধীনতার আগে ও পরে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ২০ বছর বান্দরবান আসনে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন রাজ পরিবারের সদস্যগণ। এ আসনে বীর বাহাদুর উশৈসিং ছাড়া সাধারণ পরিবারের কেউ কখনো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়নি।
ছাত্র জীবনে বীর বাহাদুর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি বান্দরবান ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে মশাল প্রতীক নিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বীর বাহাদুর ঊশৈসিং ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের টিকেট নিয়ে প্রথম বারের মত সাধারণ পরিবার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯২ সালে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্বে এ সংক্রান্ত সংলাপ কমিটির অন্যতম সদস্য এবং তৎকালীন সরকারের বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে উপমন্ত্রীর পদমর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে তিনি ১৯৯৮ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের হুইপ নির্বাচিত হন।
তিনি ২০০৮ সাালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চতুর্থবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দ্বিতীয় বারের মত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও এই মেয়াদে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই সংসদের প্যানেল স্পীকার হিসেবে খন্ডকালীন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই সময় তিনি শেখ হাসিনার গঠিত মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিপুল ভোটে বিএনপি’র প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীকে পরাজিত করে ষষ্ঠ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পার্বত্য বীর, সম্প্রীতির ধারক, জননন্দিত জননেতা বীর বাহাদুর উশৈসিং।
আজ ৬ জানুয়ারী রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার টেলিফোনের বার্তা বান্দরবান এসে পৌছার পর সকল শ্রেণী পেশার মানুষের চোখে মুখে আনন্দের উচ্ছাস। একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন অনেকে। বীর বাহাদুর উশৈসিংকে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করায় জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, একেএম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ ইসলাম বেবীসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।