বৈসাবি’র রঙ্গে রঙ্গিন খাগড়াছড়ি

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব বৈসাবি। শুরু হচ্ছে আজ থেকে বৈসাবি উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

আজ (মঙ্গলবার) ভোরে খাগড়াছড়ির চেঙ্গি নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি উৎসব। এ উপলক্ষে পাহাড়িদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, বয়স্ক স্নান, বস্ত্র বিতরণ বলি খেলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে দূরদুরান্তে অবস্থানরত পাহাড়ি মানুষগুলো পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ উদযাপনের জন্য শহরে গ্রামে চলে এসেছেন।

আজ সকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর আগে শান্তির পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপুর সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন নারী সাংসদ বাসন্তী চাকমা এমপি, জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন,জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার আবদুল আজিজ, পৌর মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শানে আলম প্রমূখ।

চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই নামে এ সামাজিক উৎসব পালন করে একত্রে বলা হয় বৈসাবি। উৎসবকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠান ও খেলাধুলা চলছে পুরো পার্বত্য গ্রামীণ এলাকায়।

কাল ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলা হয়, মূল বৈসাবি। এ দিন প্রতি ঘরে রান্না হবে হরেক রকমের সবজির মিশ্রণে ঐতিহ্যবাহী পাজন। দিনভর ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন।

আর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের বরণ উপলক্ষে থাকে আনন্দ আয়োজন ১৫ ও ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা উৎসব। মারমা তরুণ তরুণী এতে অংশ নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠে।
এবার করোনামুক্ত পরিবেশে বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রত্যেক এলাকায় আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান।

এ বছর বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসার কারণে খাগড়াছড়ির প্রতিটি উপজেলার সর্বত্র বৈসাবি উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হবে এবং এর মাধ্যমে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হবে বলে এমন আশা সবার।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।