“ভূষণছড়ার রক্তস্নাত ইতিহাস আমরা ভুলিনি” : রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র শোকসভায় বক্তারা

“১৯৮৪ সালের ৩১ মে ভোররাতে শান্তিবাহিনী যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, তা আজও ভূষণছড়ার বা‌সিন্দা‌দের মনে বিভীষিকাময় স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।” — রাঙামাটিতে আয়োজিত শোকসভায় একথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন।

শুক্রবার (৩০ মে) জুমার নামাজের পর রাঙামাটি শহরের কাঠালতলীতে পিসিসিপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী শোকসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ভূষণছড়ার চারশতাধিক বাঙালি হত্যার ৪১ বছর পার হলেও আজও হয়নি বিচার, হয়নি কোনো সুষ্ঠু তদন্ত।

সভাপতির বক্তব্যে আলমগীর হোসেন বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি জনপদ নয়, গোটা জাতির ওপর করা হয়েছে। আমরা বারবার বলে এসেছি, খুনিদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচার না হলে পাহাড়ে শান্তি আসবে না।”

পিসিসিপি’র পৌর সভাপতি পারভেজ মোশাররফ হোসেন বলেন, “শান্তিবাহিনীর হাতে বাঙালি হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস কেউ তুলে ধরে না, যেন এ ইতিহাস চাপা পড়ে থাকুক — এটি একটি ষড়যন্ত্র। ভূষণছড়া গণহত্যা নিয়ে জাতীয় কমিশন গঠন করতে হবে।”

NewsDetails_03

জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন নুহাশ বলেন, “এতবড় গণহত্যার পরও কেউ সাহস করে মামলা করতে পারেনি। প্রশাসন শুধু জিডি করেই থেমে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি।”

অর্থ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “পার্বত্য এলাকায় একের পর এক বাঙালি নিধনের ঘটনায় আমরা বারবার দেখেছি বিচারহীনতা। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই সন্ত্রাসীরা আজও বেপরোয়া।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রচার সম্পাদক ইসমাঈল গাজী এবং পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু। তারা বলেন, “পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান চালাতে হবে। সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপন করতে হবে। জেএসএস ও ইউপিডিএফ কর্তৃক সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।”

শোকসভা শেষে ভূষণছড়ায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইব্রাহিম।

আরও পড়ুন