মাটিরাঙ্গায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উন্নয়ন বরাদ্ধের টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের মাকুমতৈছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) ফান্ড এবং বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্ধের টাকা সঠিকভাবে ব্যয় না করে নয়-ছয় করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাছমিন আক্তারের বিরুদ্ধে।

বরাদ্ধকৃত অর্থ যথাযথ নীতিমালা অনুসরন না করে ব্যায় করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীসহ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে এলাকাবাসী সহ অনেকে ক্ষুব্ধ হলেও তারা হয়রানির ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস করছেন না।

তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সরেজমিনে ও তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মাটিরাঙ্গার গোমতি ইউনিয়নের ২৮নং মাকুমতৈছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে অতি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এ বিদ্যালয়ে শতভাগ ত্রিপুরা শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক মেরামতের জন্য বরাদ্ধ পাওয়া দুই লাখ টাকা এবং স্লিপ ফান্ডের জন্য ৫০ হাজার টাকা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের যৌথ ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন করে সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ব্যায়ের পুরো টাকাই নয়-ছয় করেছেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাছমিন আক্তার।

করোনা ভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরন করে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করা হয়নি। তাছাড়া বিদ্যালয়টির ভবন রঙ করাসহ জরুরী গুরত্বপূর্ণ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ থাকলেও তিনি আজ নয় কাল করবেন বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও নানা অজুহাতে বিদ্যালয় অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়টি চারজন শিক্ষকের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন।

মেরামতের দুই লাখ টাকা দিয়ে ছোট আকারের একটি টিনের টয়লেট নির্মান ছাড়া আর কিছুই করেনি জানিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিতাই ত্রিপুরা বলেন, বাকী সব টাকা ভারপ্রাপ্ত প্র্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মাখুমতৈছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তার বলেন, মেরামতের বরাদ্ধ থেকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রমোদ বিকাশ ত্রিপুরা ২০ হাজার টাকা দাবী করেন, তাকে ৫ হাজার টাকা দিলেও সে আরো টাকা দাবী করে। টাকা না দেয়ায় সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। স্লিপ কমিটির বরারদ্ধকৃত অর্থ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ওয়ার্কশীটের খরচ বাবদ ব্যায় করেছেন বলে জানান।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, বিষয়টি মাত্র অবগত হয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।