মাটিরাঙ্গায় সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার গোমতি বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদার বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয়টি ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের আরেক নাম খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়টি বাহির থেকে দেখতে দৃষ্টি নন্দন মনে হলেও এর ভিতরে রয়েছে অসংখ্য দুর্নীতি। এসব অভিযোগগুলো স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদার বিরুদ্ধে। যিনি অত্র বিদ্যালয়ে যোগদানের পর বিগত ৩ বছরে দফায় দফায় অর্থ আত্মসাৎ, চেক জালিয়াতি সহ নিয়োগ বানিজ্যের মত গুরুতর অপরাধে জড়িয়েছেন নিজেকে।

তথ্যানুসন্ধানে যানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার পদে আসিন হবার জন্য নিয়োগপ্রদান কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের অর্থ প্রদান করেন। এর পর থেকেই শুরু হয় তার একক আধিপত্য।

বিদ্যালয়ের হিসাব নিরিক্ষণ কমিটির প্রতিবেদনে যানা যায়,২০২০ সালে নুরুল হুদা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহনের পর বিদ্যালয়ের ক্যাশ বইয়ে জমা হয়নি এমন বিভিন্ন খাতের তিন লক্ষ ছত্রিশ হাজার এক টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। এতে আরো বলা হয়, প্রধান শিক্ষক রশিদ বিহীন বিভিন্ন খাতের টাকা আদায় করে বিদ্যালয়ের ক্যাশ বইয়ে বা ব্যাংকে জমা করেননি।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যায় করার জন্য সর্বোচ্ছ ৫হাজার টাকা রাখতে পারবেন, এর অতিরিক্ত টাকা লেনদেনের জন্য ব্যাংক এবং রশিদ বই ব্যাবহার করতে হবে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা নিয়ম বহির্ভূত এসব কাজ করেছন।

এদিকে ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে গেছে তদন্ত কমিটি, চতুর এ শিক্ষক নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং স্কুল কমিটির কাছে ক্ষমা ছেয়ে স্কুলের ফান্ডে ৩ লক্ষ ছত্রিশ হাজার এক টাকা জমা করে দেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা।

গোমতি বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আল মামুন জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সভাপতি আল মামুনের স্বাক্ষর জাল করো আবারো অবৈধ ভাবে দুই লক্ষ পনের হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছেন প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা। এছাড়াও নিজ ক্ষমতা বলে করোনা কালীন সময়ে ৬ লক্ষ টাকা বানিজ্যের মাধ্যমে বিদ্যলয়ে একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন এমন অভিযোগও রয়েছে এ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা অতীতে অর্থ আাত্মসাৎ কথা স্বীকার করে জানান, সেই টাকা তিনি বাধ্য হয়ে স্কুল ফান্ডে জমা করেছেন। সম্প্রতি তিনি চেক জালিয়াতি করেননি, তবে সভাপতির স্বাক্ষর করা অতীতের একটি বিল ভাউছারের চেকে সভাপতি বাহিরে থাকায় আগষ্ট মাসে শিক্ষকদের বেতন তুলেছেন তিনি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহতাসিম বিল্লাহ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির বিষয়ে তদন্তে করে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য আমাকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। যা আগামী ৭ কার্য্য দিবসে জমা দিতে বলা হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা) মোঃ হেদায়েত উল্লাহ জানান, গোমতি বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আল মামুনের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদার চেক জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন তিনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।