মাতামুহুরী নদীতে তামাকের বিষক্রিয়া: জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

বান্দরবানের লামা, আলীকদম ও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা মাতামুহুরী নদীর দু’তীরের বিস্তৃীর্ণ উর্বর জমিতে ব্যাপকভাবে তামাকের চাষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে লামা ও আলীকদম উপজেলাসহ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এ তামাকের বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে মাতামুহুরী নদী ও খাল বিলের পানিতে। তামাকের ক্ষতিকর এ বিষক্রিয়ায় মাছ ও বোরো ধানের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এ বিষে এলাকার মানুষসহ পশু পাখিও হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় তামাকের জমি ধৌত পানি নদীতে নেমে যাওয়ায় এ ক্ষতিকর প্রভাব আরও ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানিয়েছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, বান্দরবানের লামা ও আলীকদম এবং পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীর দু’তীরের বিস্তৃীর্ণ উর্বর জমিতে তামাক চাষ করেছে চাষীরা। এমন কি তামাকের চাষ নদীর তীরের জমি থেকে শুরু করে নদীর চর, বনভূমি, নদীর ঢালু কিছুই বাদ যায়নি। কক্সবাজারের চকরিয়া, বান্দরবানের লামা ও আলীকদমের শেষ প্রান্ত মিয়ানমারের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছেছে এ তামাক চাষ। বেসরকারি সংস্থা উবিনীগর (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) দেয়া তথ্য মতে, চকরিয়া, লামা ও আলীকদম উপজেলায় প্রায় ৩২ হাজার একর জমিতে তামাকের চাষ করা হয়েছে। এখন তামাক তোলার ভর মৌসুম চলছে। তামাক তোলার আগ মুহূর্তে গত মার্চ মাসে দুই দিনের বৃষ্টি ও মঙ্গলবার প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে তামাক চাষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিতে তামাকের পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। তামাকের এসব পচাপাতা ও গাছের অবশিষ্ট অংশ জমিতে পড়ছে। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানিতে তামাকের জমি ধৌত পানি মাতামুহুরী নদীতে নেমে যাচ্ছে।
গবেষণা সংস্থা উবিনীগ’র গবেষক বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. এমএ সোবাহান সাংবাদিকদের জানান, তামাক ক্ষেতে চাষীরা ৮ ধরনের রাসায়নিক কীটনাশক (বিষ) ব্যবহার করেন। ওই বিষের প্রতিক্রিয়া জমিতে অনেক দিন ধরে থেকে যায়। এছাড়া বিষক্রিয়া প্রাণী কুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বৃষ্টির পানিতে ওই বিষ নদীতে চলে এলে ক্ষতির প্রভাব চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তামাকের জমিতে মাত্রাতিরিক্ত বিষ প্রয়োগ হলে ওই বিষক্রিয়ার পানি নদীতে পড়লে মাছ মরে যায়। এসব দূষিত পানি লামা, আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলায় সৃজিত বোরো ধানের ফলন নষ্ট করে চলেছে।
স্থানীয় কৃষক সোলাইমান, নুরুজ্জামান, আবু বক্কর জানায়, বোরো ধানে থোড় বের হওয়ার সময় ও ধান পাকার সময় তামাক জমি ধৌত পানির কারণে বোরো ধানের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু জমির ধান মরেও যাচ্ছে।
এ বিষযে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাসেদ পারভেজ জানান, বৃষ্টির পানির সাথে তামাক ক্ষেতে প্রয়োগকৃত বিষাক্ত কীটনাশক ও তামাক পাতার বিষ নদীর পানিতে মিশ্রিত হওয়ার কারণে নদীর মাছের প্রজনন কমে যাচ্ছে।
লামা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, লামা আলীকদম উপজেলায় সবচেয়ে বেশি তামাকের চাষ হয়ে থাকে। তামাক চাষীরা তাদের তামাকে ক্ষতিকর বিষ ব্যবহার করে। এ বিষ বৃষ্টির পানির সঙ্গে নদীতে পড়লে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।