মানিকছড়িতে তিন কর্মকর্তার দ্বন্দ্ব : সেই ওসিকে বান্দরবানে স্ট্যান্ড রিলিজ

মানিকছড়ি উপজেলার ওসি মো: মাঈন উদ্দিন খান
খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলায় তিন কর্মকর্তার বিরোধের জের ধরে থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো: মাঈন উদ্দিন খানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে বান্দরবান জেলার পুলিশ লাইনে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনিরুজ্জামান গত সোমবার রাতে তিনি এ বদলি আদেশ দেন।
ফেনী জেলা পুলিশের ওসি মো: রশিদকে মানিকছড়ি ওসির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া এই ঘটনায় ইউএনও আহসান উদ্দীন মুরাদ এবং সহকারি পুলিশ সুপার তৌফিকুল ইসলামের বিষয়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পেলে এই কর্মকর্তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র জানায়, মানিকছড়ি উপজেলায় জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার উপর প্রভাব বিস্তার করে লাঞ্ছিত করাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায়ে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। গত বছরের ১৯ নভেম্বর মানিকছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী নয়াবাজার এলাকায় ফরেনার্স চেকপোস্ট এর উদ্বোধন করা হয়। ঐ ফরেনার্স চেকপোস্ট এর একটি অংশে পুলিশ এবং অন্যটিতে প্রশাসনের লোক থাকার কথা। কিন্তু কিছুদিন যাবার পর মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাঈন উদ্দিন খান মানিকছড়ির ইউএনও (প্রশাসন) আহসান উদ্দিন মুরাদের কাছে চাবি চাইলে ইউএনও চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান, সেই থেকে বিরোধ শুরু হয়।
গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বক্তব্য দিতে না দিয়ে মাইক সরিয়ে দেন মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মাঈন উদ্দিন খান। এঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উদ্দিন মুরাদ বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে অবগত করেন। গত ১০ জানুয়ারি রাতে ওসি মাইনুদ্দিন খানের হাতে মানিকছড়ি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তৌফিকুল ইসলাম নাজেহাল হওয়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে গত সোমবার তাকে বান্দরবান জেলায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সহকারি পুলিশ সুপার এবং ওসি’র দ্বন্ধের বিষয়ে দরখাস্ত-পাল্টা দরখাস্ত পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত করে উর্ধ্বতন র্কতৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সহকারি পুলিশ সুপার তৌফিকুল ইসলামের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং বদলির প্রক্রিয়া চলছে।
জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম বলেন, ওসি ও ইউএনওর বিরোধ তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার রয়েছেন। এই কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Denis Jolai বলেছেন

    যত নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য এদের সেখানে পাঠানো হয়

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।