মিয়ানমারে সংঘাত: অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বান্দরবানে সতর্ক প্রশাসন

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নে বসবাসরত চাক সম্প্রদায়ের  নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের জরুরী বৈঠক
নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নে বসবাসরত চাক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের জরুরী বৈঠক
মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বান্দরবানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। এনিয়ে সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাঙালি ও আদিবাসী তথা বিভিন্ন ধর্মানুসারী মানুষের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় চাকহেডম্যানপাড়াস্থ বৌদ্ধবিহারের মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সে দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর চলমান অভিযান, হত্যা, নির্যাতনকে ঘিরে যেন জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলার পরিস্থিতি উপ্তত্ত না হয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত না হয় সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশসহ অন্য নিরাপত্তাবাহিনীকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আরও জানা গেছে, নাসির নগরে হিন্দু সম্প্রদায় এবং সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনার পর দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের মতো ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশসহ অন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে বার্তা পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এই বার্তা পাওয়ার পর নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নে বসবাসরত চাক সম্প্রদায়ের লোকজনদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকদিনের মধ্যে উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোতেও এই ধরনের বৈঠক করা হবে বলে জানা গেছে।
পুলিশের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাইশারী তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আবু মুসা। বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মৌজাহেডম্যান উচাহ্লাচাক, ইউপি সদস্য থোয়াই ছাহ্লা চাক, আবু তাহের, আব্দুর রহিম, সাংবাদিক আব্দুল হামিদ প্রমুখ।
নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নে বসবাসরত চাক সম্প্রদায়ের  নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের জরুরী বৈঠক
নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নে বসবাসরত চাক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের জরুরী বৈঠক
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাইশারী তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আবু মুসা কোনও ধরনের গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি বৌদ্ধবিহারসমূহের নিরাপত্তা কমিটি গঠন ও রাত্রিকালীন নিয়মিত পাহারা দেওয়ার গুরুত্বারোপ করেন।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত রায় বলেন, ‘সব সম্প্রদায় যাতে শান্তিপূর্ণভাবে থাকে সে ব্যাপারে আমরা সবসময় তৎপর। ’
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘গুজবকে কেন্দ্র করে যাতে সাম্প্রদায়িক কোনও ঘটনা না ঘটে সেই ব্যাপারে প্রশাসন, জন প্রতিনিধি, নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে।’
উক্ত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন তদন্তকেন্দ্রের সহকারী ইনচার্জ এএসআই ওমর ফারুক, আলী মিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিন চাক, আওয়ামী লীগ নেতা মংবাছিং চাক, ধুংছা অং চাক, উছাথোয়াই চাক, অংয়থোয়াই চাক, সহকারী শিক্ষক ক্যা অংচাকসহ প্রমুখ।
এসময় বক্তারা পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার জের ধরে যাতে কোনও ধরনের সহিংসতার সৃষ্টি না হয় সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখাসহ উস্কানি বা ধর্মীয় অনূভূতিতে আঘাত আসে- এ জাতীয় কোনও বক্তব্য, বিবৃতি বা কার্য চালিয়ে সম্প্রীতি বিনষ্ট করা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। খবর-বাংলা ট্রিবিউন এর

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।