যাত্রী সেবায় ভোগান্তির অভিযোগ, সড়কে অনুমতি পাচ্ছে দুই কোম্পানি : মেয়র ইসলাম বেবী

বান্দরবানের পৌর মেয়র ইসলাম বেবী
বান্দরবানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে দুই কোম্পানির এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) বাস নামানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান পৌর মেয়র ইসলাম বেবী। শনিবার সকালে একান্ত সাক্ষাৎকারে পাহাড়বার্তাকে এ কথা জানান মেয়র ।
এ সময় মেয়র বলেন, সোহাগ, দেশ ট্রাভলস, হানিফ, রিলেক্স এবং টিআরট্রাবেলস নামে ছয়টি কোম্পানি বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালানোর জন্য এরই মধ্যে আবেদন জমা দিয়েছে । আর আবেদনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে । আগামী ২৮ তারিখ জেলা প্রশাসক মিলানায়তনে সাব-কমিটির বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । ওই বৈঠকে ৬ কোম্পানির মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২ কোম্পানিকে পূরবী-পূর্বাণী’র পাশাপাশি বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালানোর অনুমতি দেয়া হতে পারে ।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধ পরিকর । বান্দরবানের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে । কবে নাগাদ সড়কে নতুন বাস নামানো হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, পর্যটন মৌসুম এবং উৎসবে প্রচুর পর্যটক আসেন বান্দরবানে । যাত্রীসেবায় হিমশিম খেতে হয় পূরবী-পূর্বাণীকে ।এ সময় স্থানীয় সাধারন জনগণকে বেশি ভোগান্তিতে পরতে হয় । তাই বিষয়টিকে মাথায় রেখে এই রমযান মাসের মাঝামাঝিতে সড়কে নতুন দুই কোম্পানিকে বাস চালানোর অনুমতি দেয়া হতে পারে ।
উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ইসলাম বেবী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের নেতৃত্বে বান্দরবানকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি । এরই মধ্যে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সেবা এবং নান্দনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৪৩ কোটি টাকার কাজ চলমান আছে ।

পূরবী-পূর্বাণী’র সেবায় স্থানীয়দের যত অভিযোগ :

বান্দরবানের বনরুপা এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন জিকু বলেন, এদের সেবার মান তো খুবি খারাপ । অন্য যে কোন আন্ত: জেলা বাসের চেয়ে নিম্ন মানের কোচ সরবরাহ করে কর্তৃপক্ষ। তার উপর অতিরিক্ত যাত্রী বোঝায় সহ পথে পথে বাস থামানো খুবই বিরক্তিকর ।

মধ্যম হাফেজঘোনা এলাকার বাসিন্দা সৌরদ্বীপ ভট্টাচার্য্য তুষার বলেন, বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে সময় লাগত আড়াই ঘণ্টা । আর এখন সে জায়গায় লাগে সাড়ে তিন ঘণ্টা । যেখানে খুশি সেখানে যাত্রী উঠানামা করে । চেকারও কিছু বলে না ।

বান্দরবানের চেয়ারম্যান পাড়ার আরেক বাসিন্দা মি: সাইফুদ্দিন হারুন বলেন, এরা ১০ টাকার জন্যও রাস্তায় বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠায় । যা খুবই বিরক্তিকর ।

সিন্ডিকেটের মাঝখানে নতুন সার্ভিস টিকে থাকবে কি ?

অনলাইন পোর্টাল পাহাড় বার্তা ডটকম এর সম্পাদক সাদেক হোসেন চৌধুরী বলেন, পরিবহন সেক্টরে ভাল সেবা আশা করেন যাত্রীরা । কিন্তু বান্দরবানে পরিবহন সেক্টরে সিন্ডিকেটের কারনে ভাল সেবা পান না যাত্রীরা । এই সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তি পেতে চাই যাত্রীরা ।

তিনি আরো বলেন, বান্দরবান-চট্টগ্রামে ভাল বাস সার্ভিস নেই । আরো অভিযোগ আছে যাত্রীদের সাথে চালক-হেল্পাদের খারাপ আচরণ, যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী পরিবহন, নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছিয়ে না দেয়া । তবে সিন্ডিকেটের কবল ভেঙে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে নতুন বাস সার্ভিস চালুর বিষয়টি নিতান্তই ভাল উদ্যোগ । তবে এসব সিন্ডিকেটের মাঝে এই নতুন দুই কোম্পানির বাস সার্ভিস কত দিন টিকে থাকতে পারে সে বিষয়টিও দেখার বিষয় । সিন্ডিকেটের কারনে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে বিআরটিসি সার্ভিসকে বেগ পেতে হয়েছে অনেক ।

বান্দরবানের পরিবহন সেক্টর নিয়ে বলতে গিয়ে সাংবাদিক ফরিদুল আলম সুমন বলেন, বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে নতুন সার্ভিস চালু প্রশাসনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ । এলাকার মানুষ খুব সাধরে এটি গ্রহণ করবেন ।

ফরিদুল আলম সুমন আরো বলেন, পুরাতন ব্যবসায়িরা নতুন কোন কোম্পানিকে এই সেবা চালু করা থেকে বিরত রাখার জন্য সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে এমন সম্ভাবনা রয়েছে । জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ এবং প্রশাসন কে এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে যেন নতুন ব্যবসায়িরা যাতে কোন ধরনের বাধাগ্রস্থ না হয় ।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দেখছেন যেভাবে :

পরিববহন মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক সুব্রত দাশ ঝুন্টু বলেন, আমাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে আসে, তাহলে আমরা সহযোগিতার বিষয়টি চিন্তা করব । কমিটির সবাই বসে ওই দুই কোম্পানিকে বাস চলাচলে অনুমতি দিতে পারি কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখব ।

ভিন্ন আঙ্গিকে চালু হবে বিআরটিসি :

বান্দরবানে আবারো ভালো সেবা নিয়ে আসছে বিআরটিসি । আসন্ন ঈদের আগের সপ্তাহেই বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে বিআরটিসি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান বিআরটিসি কাউন্টার ম্যানেজার মফিজ চৌধুরী ।

কেন হঠাৎ করে বান্দরবানে বিআরটিসি বাস সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে মফিজ চৌধুরী বলেন, বান্দরবানের কম খরচে উন্নতমানের সেবা পেয়ে আসছিল যাত্রীরা । এর প্রতি আগ্রহও বেশি যাত্রীদের । কিন্তু বাসগুলো লক্কর ঝক্কর হয়ে যাওয়ায় তা পরিবর্তন করে দেয়ার জন্য বিআরটিসিতে আবেদন জানাই কিন্তু পরবর্তীতে আবারও লক্কর ঝক্কর বাস দেওয়ায় বান্দরবানের যাত্রী সেবার মানের বিষয়ে চিন্তা করেই বিআরটিসি বন্ধ করে দেওয়া হয় । তবে এবার সড়কে উন্নতমানের নতুন কোরিয়ান বিআরটিসি গাড়ি যুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন
Loading...