যারা চাঁদাবাজি, খুন, রক্তপাত করছে, তাদের জন্য ভয়ংকর দিন অপেক্ষা করছে : রাঙ্গামাটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা চাঁদাবাজি করছেন, যারা খুন করছেন, যারা অযথা রক্তপাত করছেন তাদের জন্য ভয়ংকর দিন অপেক্ষা করছে, কোনভাবেই তারা রেহায় পাবে না। চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যারা করাচ্ছেন তারাও বিচারের মুখোমুখি হবে। যেকোন মুল্যে পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনাই মুল্য চ্যালেঞ্জ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭অক্টোবর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সম্মেলন কক্ষে তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এসব কথা বলেন।

শান্তি চুক্তির পর সরকারের উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই প্রথম তিন পার্বত্য জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের দিন বুধবার রাতে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন,কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করছি পার্বত্য তিন জেলা অশান্ত হয়েছে উঠেছে। পার্বত্য মন্ত্রীসহ একদিন বসে সিদ্ধান্ত নিই, কি করা যায়। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম পার্বত্যাঞ্চলে গিয়ে সব স্তরের প্রতিনিধিদের সাথে বসবো। সমস্যা ও দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করবো। আমরা বুধবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর সাথে বৈঠক করেছি এবং আজকে (বৃহস্পতিবার) জনপ্রতিনিধিদের কথা শুনেছি। সবকিছু শুনে আমি আৎকে উঠলাম, তাদের বক্তব্য মতে, হঠাৎ করে পার্বত্যাঞ্চলের রক্তপাত বেড়ে গেছে। এ রক্তপাত এতই নৃশংস হচ্ছে, কাউকে যদি হত্যা করা হয় তার হয়ে কেউ থানায় যেতে পারছে না, পরবর্তীতে টার্গেট হওয়ার ভয়ে। স্বাক্ষী দিতেও যাচ্ছে না অস্ত্রের ভয়ে। এর থেকেও আরো ভয়াবহ হচ্ছে, সাইবার ক্রাইমও বেড়ে গেছে এখানে। আমি অবাক হই, এখানে স্কুল করতে দিচ্ছে না, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করতে দিচ্ছে না। কার স্বার্থে? মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থে এ অঞ্চল অন্ধকারে থাকবে এটা কারোর কাম্য নয়।

তিনি বলেন, ক্রাইম যখন বাড়ে, সবকিছুই বাড়ে এবং আমাদের সামনে চলে আসে। আমরা এটুকু বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় আমাদের সব বাহিনী আগের চেয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারি। আপনারা নিশ্চই দেখেছেন সুন্দরবনের জলদস্যুরা বাধ্য হয়ে আত্মসমর্পন করেছেন। উত্তরবঙ্গের সর্বহারা পার্টিও আত্মসর্ম্পন করেছেন। মাদকের গডফাদাররাও এর থেকে বাদ যায়নি। আমি জানিয়ে রাখতে চাই, কেউ যদি মনে করেন ঘরে বসে বসে অস্ত্রের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলাকে অচল করে রাখার স্বপ্ন দেখবেন, সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থাকবে, কখনও সফল হবে না। আমরা ধৈর্য্য সহকারে মোকাবেলা করছি বলেই এটা ভাববেন না আমাদের কোন সক্ষমতা নাই। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, আমরা সব ঘটনা জেনে গেলাম। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা চাইবো। যাতে করে এ এলাকার শান্তির ফয়সালা চলে আসে, এ এলাকার জনগণ যাতে শান্তির সুবাতাস পেতে পারে।

তিনি পার্বত্য তিন জেলার সুন্দরের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এত সুন্দর একটি এলাকার জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে, আগামীকাল কি হবে চিন্তা করবে এটা হতে পারে না। এখানকার জনগণ একটা অরাজক পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে থাকবে এটা আমরা চাই না। যেকোন মুল্যে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনবো।

সভায় পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুরের সভাপতিত্বে রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, পুলিশের আইজপি মো: জাবেদ পাটোয়ারী, পার্বত্য সচিব মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব সুদত্ত চাকমা, স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মেদ, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান, বিজিবি মহা পরিচালক মেজর জেনারেল মো: শাফিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদসহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যার, মেম্বার, হেডম্যান, কার্বারী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।