রাঙামাটিতে অবরোধের মধ্যে শেষ হলো ভূমি কমিশনের বৈঠক

রাঙামাটি সার্কিট হাউজে পার্বত্য ভূমি কমিশনের  বৈঠক
রাঙামাটি সার্কিট হাউজে পার্বত্য ভূমি কমিশনের বৈঠক
রাঙামাটিতে ৫ বাঙালি সংগঠনের অবরোধের মধ্যে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ১১টার পর এ বৈঠক শুরু হয়ে দুপুর ২টায় শেষ হয়।

রাঙামাটি সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পার্বত্য ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হকের সভাপতিত্বে কমিশনের ৯ সদস্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধি প্রিয় সন্তু লারমা, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোমিনুর রশিদ আমিন, চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, মং সার্কেল চীফ সাচিং প্রু চৌধুরী, বোমাং সার্কেল চীফ উচা প্রু চৌধুরী, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈহ্লাসহ কমিশনের ৮ সদস্য বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। বৈঠকে অপর সদস্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী যোগ দেননি বলে জানা গেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এর চেয়ারম্যান অবসরপ্রপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হক জানান, কমিশনের এ পর্যন্ত ১৫হাজার ৯৬৯ টি আবেদন জমা পড়েছে। তা যাচাই বাছাই ও শ্রেণী বিণ্যাস শেষে পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে। জনবল সংকেটের কারণে কমিশনের কার্যক্রম দ্রুত এগোনো যাচ্ছে না বলে ভূমি কমিশন চেয়ারম্যান জানান। তিনি জানান অভিযোগ দেয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হলেও সংক্ষুব্ধ যে কোন ব্যক্তি অভিযোগ জমা দিতে পারবেন।

পাহাড়ের ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের আবেদন জমা দানের সময় সীমা বাড়ানো হয়েছে। সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তি এখন থেকে যে কোন সময় পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনে আবেদন দিতে পারবেন বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন পার্বত্য ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক। বৈঠকে কমিশনের বিধি প্রনয়ন, জনবল নিয়োগ, কমিশনের দাপ্তরিক লজিষ্ট্রিক সাপোর্ট দিতে সরকারকে তাগিদ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সন্তু লারমা জানান, কমিশনে জমা পড়া আবেদনের উপর আলোচনা করা হয়েছে কিন্তু জনবল না থাকায় এ সব আবেদন যাচাই বাছাই করা সহজ নয়। তাই সরকারের কাছে কমিশন জনবল নিয়োগসহ বিধি প্রনয়নে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন, কমিশনে ভূমি বিরোধ নিয়ে যে কারো আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। জনবল না থাকায় কমিশনের কাজ ধীর গতিতে চলছে বলে তিনি জানান। এদিকে বৈঠকের প্রতিবাদ এবং ভূমি কমিশন আইন বাতিলের দাবীতে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে বাঙ্গালীদের ডাকে সড়ক অবরোধ পালন করা হয়।

উল্লেখ্য, ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪অক্টোবর পর্যন্ত ৪৫ দিন মেয়াদে ভূমি বিরোধের আবেদন আহবান করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। যার মেয়াদ আজকের বৈঠকে বাড়ানো হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর সংসদে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংশোধনী আইন পাশ হওয়ার পর এটা কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠক।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।