রাঙামাটিতে ঘুষ, তদবির ছাড়াই ১০৪ জনের নিয়োগ

রাঙামাটি শহরের ওমদামিয়া পাহাড়ের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, তিনি ২০১১ সালে এইচএসসি পাশ করার পর ইতোপূর্বে বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছেন তবে ভাগ্যে চাকরি জুটেনি। এবার তিনি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে পরিবার পরিকল্পনা সহকারী পদে আবেদন করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছন। এতে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করে জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধিনস্ত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বিভিন্ন পদে এবার ঘুষ, তদবির বা অনিয়ম ছাড়াই ১০৪ জন নিয়োগ পেয়েছে। মেধার মূল্যায়ন করায় বর্তমান পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে নিয়োগ প্রাপ্তরা।

২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বর্তমান পরিষদ। এ পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বিভিন্ন পদে ১০৪ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এসব পদে আবেদনকারীদের মধ্যে ৬১৫৯ জনের লিখিত পরীক্ষা শেষে ১৪০৮ জনের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। এবারই প্রথম জেলা পরিষদের কোন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেনি। শুধু তাই নয়, জেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী থেকে চাকরী পেয়েছেন বিনা ঘুষ বা তদবীরে।

একই বিভাগে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া অভিলাষ ত্রিপুরা বলেন “চাকুরীতে আবেদন করার সময় ৩৫০ টাকার পে অর্ডার দিয়েছি এতেই আমার চাকরী হয়েছে, এটা আমার জন্য অবিশ্বাস্য বিষয়”। কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পাওয়ায় জয়া সেন বলেন, জেলা পরিষদ আমার মেধার মূল্যায়ন করেছে তাই আমি খুশি। ২০১৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম মহিলা পলিটেকনিক থেকে কম্পিউটার ডিপ্লোমা শেষ করেন।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, আমরা মেধাকে মূল্যায়ন করেছি। জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠতো, আমি সে গন্ডি থেকে বের হয়ে আসতে চাই উল্লেখ করে পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

এদিকে জেলা পরিষদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার খবর আশার আলো দেখাবে বলে জানান বিশিষ্টজনরা। জেলা পরিষদের নিয়োগ পক্রিয়ায় স্বচ্ছতার মাধ্যমে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পর স্থানীয় সরকার পরিষদ পরিবর্তন হয়ে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠিত হয়। এরপর থেকে পার্বত্য জেলার সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করে আসছে। জনগণের সেবার ক্ষেত্রে এখানে কোন প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না থাকায় পার্বত্য জেলা পরিষদগুলি গণমুখি হয়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন সেবা প্রত্যাশী জনগণের ভীড় দেখলেই তা প্রতীয়মান হয়।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।