রাঙামাটিতে ধসের ঝুঁকিতে শতাধিক ঘর-বাড়ি

ছবি- ভেদভেদীর কালী বাড়ী সংলগ্ন এলাকায় ধসে যাওয়া আধা-পাকা বাড়ি ।
রাঙামাটিতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ও কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে আরো শতাধিক ঘর-বাড়ি। এতে পাহাড় ধস কবলিত এলাকায় পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উদ্বেগ আর আতঙ্কে কাটছে ধসের ঝুঁকিতে থাকা শহরের এসব এলাকার বাড়িঘরের মানুষজনদের।
স্থানীয় লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল বৃষ্টিতে গত সপ্তাহের পাহাড় ধসে অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। প্রানহানী হয়েছেও অনেক। ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত শতাধিক বসতবাড়ি। কোন কোন এলাকায় উচু জায়গার ভাঙ্গনে নিচু জায়গার ঘরবাড়ি রয়েছে ঝুঁিকতে। কোথাও কোথাও অস্বাভাবিকভাবে মাটি সরে গেছে। টানা বৃষ্টি বড়ধরণের ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে এসব এলাকায়। ফলে এসব এলাকার কেউ কেউ অন্যত্র নিজেদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। পাহাড় ধস আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকে। ঘর-বাড়ি ধসে যেতে পারে এমন ভয়ে কেউ কেউ প্রতিবেশি বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউবা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকে। তারা মানবেতর দিন যাপন করছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টি হওয়ায় রাঙামাটি শহরের অনেক এলাকার বাড়িঘর এখনও রয়েছে ঝুঁিকর মুখে। শহরের ভেদভেদীর কালিবাড়ি সংলগ্ন এলাকা, মৌনতলা, মুসলিম পাড়া, নতুন পাড়া, ভেদভেদী এলাকার বড় একটি অংশ, দেবাশীষনগর, আমানতবাগ এলাকা, পাবলিক হেলথ, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি এলাকায় বেশকিছু বাড়িঘর রয়েছে ঝুঁিকর মুখে। টানা বৃষ্টিতে ধসে যেতে পারে অনেক বাড়িঘর।
ভেদভেদীর কালিবাড়ি সংলগ্ন এলাকার প্রমতোষ বড়–য়া জানান, আমরা পাহাড়ের পাদদেশে বাস করার ফলে ওপরের ঘরবাড়িগুলোতে ধস হওয়ায় আমরা নিচে থাকা অনেকগুলো পরিবার রয়েছি আতঙ্কের মধ্যে। টানা বৃষ্টিতে যেকোন সময় ওপরের ধস হয়ে আমরা সকলে মাটি চাপা পড়তে পারি। তাছাড়া পাহাড় ধসে পানি যাওয়ার যে ড্রেনটি রয়েছে তা ধসের কারণে ভেঙ্গে গিয়েছে। এ বিষয়ে আমি পৌরসভাকে ও অবগত করেছি।
একই এলাকার রাখাল বড়–য়া বলেন, আমার বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি ঝুঁিকর মধ্যে রয়েছে। ধসের ভয়ে আমরা এখন অন্যত্র বসবাস করছি। পাহাড় ধস রোধে ব্যবস্থা না নিতে পারলে যেকোন সময় পাহাড় ধস হয়ে বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।