আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি-২৯৯ নং সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
নাম ঘোষণার পরপরই রাঙামাটি জুড়ে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের সঞ্চার হয়। স্থানীয় নেতারা জানান, এডভোকেট দীপেন দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং তিনি ধানের শীষের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় মুখ।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এডভোকেট দীপেন দেওয়ান কেন্দ্রীয় বিএনপি ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী সকলকে সঙ্গে নিয়ে রাঙামাটিতে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। এই বিজয় হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের বিজয়।”
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট দীপেন দেওয়ান দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতি, সমাজসেবা ও সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে একজন সৎ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পদমর্যাদা সম্পন্ন উপদেষ্টা প্রয়াত সুবিমল দেওয়ানের সুযোগ্য সন্তান। পারিবারিকভাবে বিএনপির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের সূত্রে তিনি ছোটবেলা থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বেড়ে ওঠেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৮ম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান ৭ম বিসিএসের মাধ্যমে জুডিশিয়ারি সার্ভিসে যোগ দেন এবং প্রায় ১৯ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকারি চাকরি ত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করেন এবং দলের বিপদে-আপদে সর্বদা মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি রাঙামাটি আইন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও এফপিএবির আজীবন সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট সমিতির আজীবন সদস্য।
তার পিতা প্রয়াত সুবিমল দেওয়ান ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফরসঙ্গী ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা, যিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পিতার সেই আদর্শ ও অভিজ্ঞতা থেকেই দীপেন দেওয়ান পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক চিন্তাধারা অর্জন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বারবার হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হলেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে কর্মীদের পাশে থেকে বিএনপিকে সংগঠিত রেখেছেন বলেই তৃণমূলের কাছে তিনি আজ আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
রাঙামাটির রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনা—“ধানের শীষের বিকল্প মুখ এই আসনে এখনো গড়ে ওঠেনি।” উন্নয়ন, সততা ও ত্যাগের প্রতীক হিসেবে সাধারণ মানুষ আজও সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখছেন এডভোকেট দীপেন দেওয়ানের ওপর।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার পারিবারিক ঐতিহ্য, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের কারণে রাঙামাটি-২৯৯ আসনে বিএনপির সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবেই বেছে নিয়েছেন এডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে।



