রাঙামাটির অচল সড়ক সচল করতে অবিরাম চেষ্টা

রাঙামাটির ঘাগড়া এলাকায় সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে

প্রবল ভারী বর্ষণে ধসে যাওয়া রাঙামাটির সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের মানিকছড়ি,সাপছড়ি,ঘাগড়া শালবাগান এলাকা সরেজমিনে ঘুরে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের মানিকছড়ি এলাকা থেকে ঘাগড়া পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক পথ প্রবল বর্ষণের কারনে ধসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম,রাঙামাটি-বান্দরবান,রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ৭ টি রুটের ১৪৫ টি স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। এছাড়া সড়কের ৩৭ টি স্থান ভেঙ্গে পড়েছে। এর মধ্যে ঘাগড়ার শালবাগান এলাকার সড়কটি ৬১কি:মি:সীমানা এলাকায় একশ ফুট সড়ক ২শ-৩শ ফুট পাহাড়ের নিচে ধসে গেছে।
অপরদিকে,খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের ৭০ মিটার সড়ক ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্থ মুল সড়কের পাশে পাহাড় ফের কেটে বাইপাস সড়ক তৈরীর চেষ্টা করছে সেনা বাহিনী ও সড়ক বিভাগের কর্মীরা। রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সমূহে মাটি সরানোর কাজ শুরু হলেও এখনো সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রাঙামাটি খাগড়াছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনের কারনে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে।
রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া রিতু চাকমা বলেন, সড়কের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির কারনে আমরা চট্টগ্রাম যেতে পারছিনা। সরকারের কাছে আবেদন দ্রুত যেন এ সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তুলে।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাহাড়ের পাদদেশ বেয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার পায়ে হেটে নিজ গন্তব্যে পৌছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা কয়েকশ ফুট উঁচু পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে আবাল বৃদ্ধ বনিতা প্রয়োজনীয় গন্তব্যের দিকে ছুটে চলেছে।
ব্যবসায়ী স্বপন চাকমা জানান, আমি সাপছড়ি থেকে পায়ে হেটে আমার পরিবার নিয়ে রওনা দিয়েছি দুই ঘন্টার আগে রাঙামাটি পৌছাতে পারব কিনা সন্দেহ আছে।

পায়ে হেটে সাধারণ মানুষের চলাচলের দৃশ্য

এদিকে, অনেকে স্বেচ্ছায় সড়ক পথ সচল করতে ব্যাক্তি উদ্যেগে কাজ করছেন। তার মধ্যে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক দীপু তালুকদারের নেতৃতে¦ চারশ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল সাপছড়ি এলাকায় সাধারন জনগনের যাতায়াত সুবিধার্থে পুরো সড়ক জুঁড়ে কাজ করে যাচ্ছে।
সাপছড়ির রতন কার্বারী জানান, আমরা খুবই দুর্বিসহ জীবন যাপন করছি, সড়ক ধসের কারনে নিত্য প্রয়োজণীয় দ্রব্য জেলায় আসতে না পারায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাউখালীর বাসিন্দা পিন্টু কান্তি বিশ্বাস জানান, আমি সকালে কাউখালী থেকে হেটে মানিকছড়িতে এসেছি। আমার মেজো মেয়ে, জামাই ও নাতি মঙ্গলবার পাহাড় ধসে একসঙ্গে মারা গেছে। তাদের শেষকৃত্য করার মতো কেউ নেই বলে আমার রাঙামাটি যেতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: এমদাদ হোসেন বলেন,আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে এ সড়কে প্রাথমিকভাবে হালকা যান চলাচল করতে পারবে। তবে মুল সড়ক দিয়ে ভারী যান চলাচল করতে প্রায় ১০-১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে এ সড়ক মেরামত করার জন্য ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। এদিকে পার্বত্য রাঙামাটির মানুষ এ মহাদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।