রাঙামাটির আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ

সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা
পাহাড় ধসের কারনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত আহত ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মাঝে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। রাঙামাটির এ মানবিক বিপর্যয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে প্রায় ২০-২৫ জন মানুষ দিনরাত অবিরাম পরিশ্রম করছেন অসহায় মানুষগুলোর মাঝে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার জন্য।
রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, পাহাড় ধসের কারনে নিরাপদ পানির যে সংকট সে জন্য আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ৫শ লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকে প্রতিটা কেন্দ্রে নিজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে এক থেকে দেড় হাজার লিটার পানি সরবরাহ করছে। এর পাশাপাশি শহরের ৪টি পানি শোধানাগার (তবলছড়িতে ২টি ও পাবলিক হেলথ এলাকায় ২টি)ও ৬ টি বুষ্টার ষ্টেশনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
অপরদিকে, বর্তমানে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য দৈনিক এক টন ফিটকারী,একশ কেজি চুন ও বিশ কেজি বিøচিং পাউডার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রবেকৗশল বিভাগ। রাঙামাটি শহরের প্রত্যেক এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট ও বিতরন করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের রাঙামাটি সদর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সজল বলেন, পাহাড় ধসের কারনে নিরাপদ পানির সংকট থেকে উত্তরনের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আমরা নিয়মিত পানি সরবরাহ করে আসছি। এদিকে,রাঙামাটি সরকারী কলেজ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া খাদিজা বেগম বলেন, আমরা প্রতিদিনি সকাল-বিকাল খাবার পানি খেতে পাচ্ছি। পাবলিক হেলথ থেকে এখানে একটি পানির ট্যাংক বসিয়ে দিয়েছে।
অপরদিকে, রাঙমাটি বেতার আশ্রয় কেন্দ্রের আশ্রিতা মরিয়ম বেগম বলেন, আমরা প্রতিদিন খাবার পানি খেতে পাচ্ছি, পানি নিয়মিত এসে দিয়ে যাচ্ছে। পানি নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা নাই।
জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী দীপক দাশ ও রাম কুমার দাশ জানান, আমরা প্রতিদিন দুইবেলা করে প্রতিটি কেন্দ্রে খাবার পানি সরবরাহ করছি। ৩ টি গাড়ীতে করে প্রতিদিন ৩-৪ বার পানি সরবরাহ করছি।
রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকোৗশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন,রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের কারনে যে দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে এতে আশ্রয় কেন্দ্রে গুলোতে ট্যাংক বসিয়ে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন ১৮ হাজার লিটার পানি দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে শহরের পানি সাপ্লাই ব্যবস্থাও সচল রয়েছে। দুর্যোগের প্রথম দিন থেকে যখন শহরে বিদ্যুৎ ছিল না জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জেনারেটর এর মাধ্যমে আশ্রয় কেন্দ্রে পানি সাপ্লাই দিয়েছে। বর্তমানে ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ১২ টি আশ্রয়কেন্দ্রে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ৫শ লিটারের পানির ট্যাংক বসানো হয়েছে সুপেয় পানি পান করার জন্য। প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। দুর্যোগকালীন সময়ে পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেটও দিয়েছি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।