রাঙামাটির জুরাছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই এখন রোগী !

জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ন অবস্থা
রাঙামাটির দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ভবনের জরাজীর্ণসহ নানা সমস্যা জর্জরিত। বর্তমানে এমন অবস্থা যে যেখানে রোগী গেলে ভালো হওয়ার তো দুরের কথা সেখানে সুস্থ মানুষ গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, এই হচ্ছে জুরাছড়ির কমপ্লেক্সের দুরাবস্থা।
রাঙামাটি শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত এই দুর্গম জুড়াছড়ি উপজেলা। বর্তমানে এ উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। সুত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮সালের দিকে ১০ শষ্যা বিশিষ্ট আধাপাকা টিন সেট দিয়ে এই জুরাছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গড়ে তোলা হয়। বিগত ২০০১ সালে ভূমিকম্পের কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটি বিভিন্ন অংশ মারাত্মক ফাটল দেখা দিলেও কোন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে এ ফাটল এমন মারাতœক অবস্থায় দেখা দিয়েছে যে কোন মুহুর্তে ভবনটি ধসে পড়তে পারে। ভবনের ছাদ নষ্ট হয়ে গেছে। অল্প বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে পানি পড়ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক,নার্সসহ অন্যান্য লোকবলের সংকট লেগেই রয়েছে। ৯ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৩জন চিকিৎসক রয়েছেন। তবে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হলেও কিছু দিন থাকার পর অন্যত্র বদলি হয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতালটির কর্তব্যরত নার্সরা জানিয়েছেন, ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় কোন সময় দেয়াল ধসে পড়ে দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়।
অপরদিকে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারিদিকে সীমানা দেয়াল না থাকায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক নার্স ও কর্মচারীদের কোন আবাসনের কোন সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কোন রকমে জোড়া-তালি দিয়ে চালানো হচ্ছে।
জুরাছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সহকারী ডেন্টাল সার্জন ডাঃ সাজু আহমেদ জানান,হাসপাতালটি খুবই জরাজীর্ন অবস্থায় আছে। কখন যে ভবনটি ভেঙ্গে পড়ে বলা যাচ্ছে না। এ ছাড়া বিভিন্ন জিনিসপত্রের ও সংকট রয়েছে এরপরেও আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ এর ভাইস-চেয়ারম্যান রিটন চাকমা বলেন, হাসপাতালটির বর্তমান যে অবস্থা সেখানে সুস্থ মানুষ ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সিভিল সার্জন এর সাথে যোগাযোগ করেছি তিনি বলেছেন কাজ হবে প্রসেসিং আছে। কিন্তু কবে হবে সেটা তিনি বলতে পারেননি।
রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যে অবকাঠামো এটা আসলে খুবই জারাজীর্ন অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে যে স্বাস্থ্য সেক্টরে র্কমসুচী চলছে সেখানে স্বাস্থ্য প্রকৌশলের মাধ্যমে সব উপজেলায় হাসপাতালে ৫০ শয্যার বেডে উন্নীত করার অনুমোদন রয়েছে। কিছুদিন আগে স্বাস্থ্য প্রকৌশলের বরাবরে চিঠি প্রেরন করেছি।
এদিকে রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা জুরাছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষ অতিদ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করবে বলে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
Loading...