রাঙামাটির ডিসির মহানুভবতায় হাটতে পারবে শিশু শামীমা !

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক একে এম মামুনুর রশিদ
ছোট শিশু শামীমা। বয়স মাত্র ৩ মাস। বাঁকা পা নিয়েই পৃথিবীতে জন্ম নেয়া। জন্মেছে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় এমন পরিবারে। বাবা দিনমজুর, মা গৃহীনি। থাকেন রাঙ্গামাটি শহরের স্বর্ণটিলা এলাকায়। শামীমার জন্মগত এ সমস্যা চিন্তায় ফেলে দেয়, তার বাবা-মাকে। উপায়ন্তর না দেখে রাঙ্গামাটি ডিসির দরজায় কড়া নাড়তে বাধ্য হয়। ফলস্বরুপ দেবদুত যেন এসে স্বয়ং দরজা খুলে দিল। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বাঁকানো পা ঠিক করা সম্ভব। এমনটিই আশ্বস্থ করেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক একে এম মামুনুর রশিদ।
শামীমার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও পরিবারের অবস্থার কথা শোনার পর ডিসি মামুনুর রশিদ পুরো চিকিৎসার ব্যয় ভার নিজ কাঁধে তুলে নিলেন। শামীমার গরীব বাবা-মাকে আশ্বস্থ করলেন, শামীমার চিকিৎসা হবে, পুরো টাকাটাই বহন করবো আমি। আশা করি, শামীমা একটি সম্পুর্ণ শিশুর মতই হাটতে পারবে। খেলাধুলা করতে পারবে, দৌঁড়াতে পারবে।
গত বুধবার গণশুনানীতে শামীমাকে নিয়ে আসেন তার মা নাছিমা আক্তার। তখনও তার পা দুটো ব্যান্ডেজে মোড়ানো, লেপ্টে আছে মায়ের বুকের সাথে। ডিসি মামুনুর রশিদ তাকে কোলে তুলে নিলেন এবং মনোযোগ দিয়ে নাছিমা আক্তারের সব কথা শুনেন। শুনে তাৎক্ষনিকভাবে ডিসি সিদ্ধান্ত নিলেন শামীমার পা ঠিক করতে চিকিৎসার পুরো দায়িত্বটা তিনিই নিবেন। তিনি আলাপ করলেন ফুট ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে। তারা জানালেন, চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁকানো পা ঠিক করা সম্ভব। এর জন্য ব্যয় হতে পারে ৫০ হাজার টাকার মত। ডিসি তাদের সাথে বিস্তারিত আলাপ করে যত টাকাই লাগুক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করলেন।
ডিসির এমন মহানুভবতায় বিস্মিত শামীমার মা নাছিমা আক্তার। আবেগ আপ্লুত হয়ে তিনি জানালেন, এতদিন জানতাম ডিসিদের কাছে সাধারণ মানুষ ঘেঁষতে পারে না। আজ দেখলাম ঠিক তার উল্টো। মেয়েকে নিয়ে বেশ দুঃচিন্তায় ছিলাম, এ মেয়ে বড় হয়ে হাটবে কিভাবে? স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে কিনা? আজ ডিসি স্যার আমাদেরকে সে কষ্ট, সে যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিলেন। শামীমা হাটতে পারবে এমন খুশিতে নাছিমা আক্তারের চোখ আনন্দাশ্রুতে ঠলমল যেন। তিনি ডিসি মামুনুর রশিদের মহানুভবতার ঋন শোধের প্রতিক্রিয়াটা দেখালেন ঠিক এভাবেই, আল্লাহ ডিসি স্যারকে আরো বড় মনের মানুষ করুক, শত বছর বাঁচিয়ে রাখুক।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।