রাঙামাটির ত্যাগী নেতা এম ইসমাইল ফরিদকে মূল্যায়নের দায়িত্ব কার ?

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পদবঞ্চিত !

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবার হত্যার পর আওয়ামী লীগ পরিচয় দিতে কেউ সাহস পেতনা। সেই কঠিন সময়ে রাঙামাটির কাপ্তাই থানা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিবেদিত ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে এতদঞ্চলে আ’লীগের ভীত মজবুত করেছেন যিনি, বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত আদর্শের সৈনিক, মুজিব পাগল সেই আ’লীগ নেতা এম ইসমাইল ফরিদ দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পদ বঞ্চিত ।

আরো জানা গেছে, কমিটির মেয়াদ শেষ হয়, আবার নতুন কমিটি হয়, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। এভাবে বছরের পর বছর গিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর চলে যায়। কিন্তু দুঃসময়ের অকুতোভয় মুজিব সৈনিককে সম্মান করেও একটি সাধারণ সদস্য পদ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কেন এমন হলো ? আওয়ামী লীগ তো কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এর উত্তর কে দিবে? আক্ষেপে এমন প্রশ্ন করেন দুঃসময়ের ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা এম ইসমাইল ফরিদ।

এ প্রসঙ্গে কাপ্তাই থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম ইসমাইল ফরিদের মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, ৭৫’ পরবর্তী ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৬ সালে কাপ্তাই থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর ২০ মার্চ ১৯৭৭ সালে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে মিছিলে নেতৃত্ব দান, ১০ আগষ্ট ১৯৭৭ সালে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ, ১৯৭৮ সালের সংসদ নির্বচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আকতারুজ্জামান বাবু’র পক্ষে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন,পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নির্দেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে যোগদান, ১৯৮১ সালের ১৭ মে’ জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন স্ব-দলবল নিয়ে ঢাকা বিমান বন্দরে উপস্থিত হওয়া এবং সেদিন প্রচন্ড বৃষ্টিতে ভিজে অপরাহ্নে শেরেবাংলা নগরে প্রিয় নেত্রীর বক্তব্য শুনে ভিজা কাপড় পরে ওইদিন রাতেই আবার চন্দ্রঘোনায় ফিরে আসেন।

১৯৮৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘরোয়া রাজনীতির আওতায় কাউন্সিল অধিবেশনে তার করা প্রস্তাব অনুযায়ী তারই সঞ্চালনায় প্রকাশ্যে সভা অনুষ্ঠিত করা, ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিনিঅং চৌধুরীকে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে (ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার বাসায়) সাক্ষাত, ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে জননেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা কেপিএম সোনালী ব্যাংক মাঠে নির্বাচনী জনসভা সঞ্চালনা করা, ১৯৯৬ সালে কাপ্তাই উপজেলা সদর বড়ইছড়ি ষ্টেডিয়ামে রাত ১১ টার সময় শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জনসভা সঞ্চালনা করেন আ’লীগের এই ত্যাগী নেতা।

তিনি আরো বলেন, ৭৫’পরবর্তী যখন আ’ লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর নাম নেওয়ার সাহস কেউ করতো না,সে সময় রাতের আঁধারে চুপিসারে চন্দ্রঘোনার কেপিএম এলাকায় ৭৩’ সালের যুবলীগের সম্মেলনের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছবি সম্বলিত পোস্টার লাগিয়ে বাসায় আসতেন। পরদিন সকালে দূর থেকে দেখতেন কারা বঙ্গবন্ধুর ওই ছবি দেখে কান্না, আপসোস বা মন খারাপ করতেন,তাদের চিহ্নিত করতেন দলের মানুষ হিসেবে। রাতের বেলায় ওইসব মানুষদের বাসায় গিয়ে তাদের খোঁজ-খবর নেওয়াসহ তাদের সাথে শলাপরামর্শ করতেন। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে দুঃসময়েও তারা দলের জন্য কাজ করে গেছেন।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭৭ সাল থেকে টানা ১৪ বছর কাপ্তাই থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আওয়ামী লীগের দূর্গে পরিনত করার পর সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ দীপংকর তালুকদার সেসময়ে তাকে জেলায় অর্ন্তভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালের ২৮ নভেম্বর ওবায়দুল কাদেরের (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক) উপস্থিতিতে চন্দ্রঘোনার কলাবাগানে কাপ্তাই থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে গিয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়। সেই থেকে দীর্ঘ ২৮ বছর অতিবাহিত হলেও তাকে কোন কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা পদের জন্য লালায়িত নই। কিন্তু কষ্ট একটাই, নিঃস্বার্থ ভাবে এবং চরম দুঃসময়ে দীর্ঘ একযুগেরও বেশী সময় ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পর এতো বছরেও কেউ সম্মান করে আ’ লীগের ইউনিয়ন,উপজেলা ও জেলা কমিটিতে একজন সাধারণ সদস্য পদে পর্যন্ত রাখেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে এই অকুতোভয় মুজিব সেনা বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের দুঃসময়ে যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলেন, দলের পোড়খাওয়া নেতাকর্মী, দল থেকে কোন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেনি,এমন নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার ঘোষনা দিয়েছেন। তেমনি গত ১২ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “দুঃসময়ের কর্মী চাই, বসন্তের কোকিল চাই না”।

তিনি বলেন,বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে পোড়খাওয়া আদর্শের মুজিব সৈনিকদের মূল্যায়নের ঘোষনা দিয়েছেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দুঃসময়ের কর্মী চেয়েছেন,তাতেই সন্তষ্টি প্রকাশ করেন পোড়খাওয়া মুজিবাদর্শের নির্লোভ এই নেতা।

তিনি আরো বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের জন্য কোন পদে যেতে রাজি নয় দুঃসময়ের এই মুজিব সৈনিক।তিনি তার প্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগ যে ক্ষমতায় আসীন রয়েছে, এতেই সন্তোষ্টি প্রকাশ করেন। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন মুজিব আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে আওয়ামী লীগকেই ভালবেসে যাব।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।