রাঙামাটির দূরত্ব কমাবে খাগড়াছড়ির নয়নাভিরাম সড়ক !

খাগড়াছড়ি। পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক ইতিহাস ও পথপরিক্রমার সাক্ষী এ জেলা। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি থেকে শুরু করে এ অঞ্চল কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করেছে খাগড়াছড়ি জেলা। পাহাড়ের অন্য দুই জেলার চেয়ে অনেকটা উন্নত খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ। যা কাজে লাগিয়ে বিগত অর্ধযুগের বেশী সময় ধরে পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এ জেলা। রাঙামাটির ভৌগলিক অবস্থানগত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের একচেটিঁয়া ব্যবসা এ জেলা থেকে অনেকাংশ নিয়ন্ত্রিত হয়। যার বড় একটা সুযোগ করে দিয়েছে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। আর এবার রাঙামাটি জেলা সদর ও নানিয়ারচর উপজেলার সাথে নতুন মাত্রায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে যাচ্ছে খাগড়াছড়ির নয়নাভিরাম একটি সড়ক।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ২০ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া থেকে মহালছড়ি উপজেলার ২৪ মাইল পর্যন্ত নয়নাভিরাম এক সড়ক নির্মাণ করেছে। এ সড়ক ব্যবহার করে ঢাকা থেকে রামগড় জালিয়াপাড়া হয়ে মহালছড়ির ২৪ মাইল এলাকা দিয়ে চালু হবে রাঙামাটির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। খাগড়াছড়ির জালিয়াপাড়া থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত মাত্র ২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের ফলে ঢাকা-রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ কমবে ৭০ কিলোমিটার, সময়ও বাঁচবে প্রায় ৩ ঘন্টা। সড়ক যোগাযোগ ছাড়াও রাঙামাটির নানিয়ারচর, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি, গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে গতি আনবে এ সড়ক। নয়নাভিরাম এ সড়কের ভৌগলিক অবস্থান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছে পর্যটকও।

মহালছড়ির ফলদ বাগানি হ্লাশিমং চৌধুরী বলেন, আম, ড্রাগন সহ মিশ্র ফলদ বাগানের ফল বাজারজাতে আগে খুব চিন্তা হতো। এ বছর কম সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রামে ফল যাচ্ছে সিন্দুকছড়ির নতুন সড়ক ব্যবহার করে।

মহালছড়ির বাসিন্দা মিল্টন চাকমা জানান, বাড়ি মহালছড়ি। চাকরী করি গুইমারা উপজেলায়। আগে খাগড়াছড়ি সদর হয়ে জালিয়াপাড়া যেতে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। আর এ নতুন সড়ক হওয়া এ দূরত্ব ২২-২৪ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। সময় ও খরচ দু’য়ে কমেছে।

গুইমারা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উশেপ্রু মারমা বলেন, জালিয়াড়া থেকে মহালছড়ি সিন্দুকছড়ি সড়ক খাগড়াছড়ির দুই উপজেলার কৃষি অর্থনীতি ছাড়াও কাপ্তাই হ্রদ বেষ্টিত রাঙামাটির মৎস খাত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে দিবে। এ অঞ্চলের মানুষ এ সড়কের পূর্ণাঙ্গ চালুর অপেক্ষায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. আমজাদ হোসেন দীদার জানান, এ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৫.৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক, ২৪ কিলোমিটার সাইড ড্রেন ও ৪১০ কিলোমিটার গ্রাভিটি ওয়াল, ৬৩০ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল ও ৮০০ মিটার প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছে। এ সড়ক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামের যানজট এড়িয়ে এ সড়ক ব্যবহার করে ঢাকার সাথে যোগাযোগ চালু হলে দূরত্ব কমবে ৬৮ কিলোমিটার ও সময়ও বাচঁবে প্রায় ৩ ঘন্টা। প্রকল্প মেয়াদের ৬ মাস আগে কাজ শেষ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ২০ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।