রাঙামাটির বেতবুনিয়ার ওয়াইনুচিং চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করলেন

ওয়াইনুচিং মারমা
রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়ার সানাইপাড়ার বাসিন্দা ওয়াইনুচিং মারমা চট্টগ্রামের খুলশী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ গত শনিবার এই আদিবাসী তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। ওয়াইনুচিং রাঙামাটির বেতবুনিয়ার সানাইপাড়ার অং সুই মারমার মেয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, বাসার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে আত্মহত্যা না হত্যা, সেটি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন খুলশী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিন।
নিহত তরুণী ওয়াইনুচিং মারমা (২৩) রেলওয়ে হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ খুলশী এক নম্বর সড়কের সি ব্লকের সৈয়দ রহমান টাওয়ারের ৬ষ্ঠ তলায় খালাতে বোনের পরিবারের সাথে তিনি থাকতেন।
পুলিশ জানায়, ওয়াইনুচিং তার খালাতো বোনের পরিবারের সাথে একই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকতেন। খালাতো বোনের স্মামী ও একটি সন্তান রয়েছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত সবাই বাসায় ছিলেন। ২টার দিকে খালাতো বোন তার স্বামীসহ বাইরে যান। তখন ওয়াইনুচিং বাসায় একা ছিলেন। এর মধ্যে বৃষ্টি নামের এক বান্ধবীকে ফোন করে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন এমন কথা বলেন ওয়াইনুচিং। তড়িঘড়ি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শহরের অপর এক বান্ধবীকে ফোন করে দ্রুত ওয়াইনুচিংয়ের বাসায় যেতে বলেন বৃষ্টি। কিন্তু সন্ধ্যায় খালাতো বোনসহ সবাই এসে ওয়াইনুচিং এর রুম ভিতর থেকে বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে শনিবার রাত নয়টার দিকে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন খুলশী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিন।
এসময় ওয়াইনুচিং এর নোট বুকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে জানিয়ে ওসি বলেন, চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমি নিজের ইচ্ছেই এ পথ বেছে নিলাম। আমার মৃত্যুর জন্য এ বাসায় বা আমার পরিবার কেউ দায়ী নয়। আমি জাহিদ এর সাথে অন্য সমস্যা থাকার কারণে নিজে বাঁচার আর পথ দেখিনি। আমার যদি বা কিছুই হয়ে যায় জাহিদকে ধরলে সব বের হয়ে যাবে।’ তবে নোটবুকে লেখাগুলো আদৌ নিহত ওয়াইনুর হাতের লেখা কিনা তা যাছাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
এদিকে, চিরকুটে নাম থাকা জাহিদের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন ওয়াইনুর খালাতো বোনের স্বামী সাউমং মারমা। আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কেও তেমন কিছু বলতে পারেন নি তিনি। তবে নিহতের দূর সর্ম্পর্কীয় এক আত্মীয়ের সূত্রে জানা যায়, ওয়াইনু চিংকে রেলওয়ে হাসপাতালে চাকরি পেতে সহযোগিতা করেন একজন বাঙালি। তারা বিভিন্ন সময় একসাথে সময় কাটাতেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।