রাঙামাটির রাজবন বিহারে দুদিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন

রাঙামাটির রাজবন বিহারে দুদিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব
রাঙামাটির রাজবন বিহারে দুদিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব
রাঙামাটির রাজ বন বিহারে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কঠিন চীবর দান উৎসব শুক্রবার বিকালে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার রাঙামাটি রাজ বনবিহারে ৪৩তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে পূর্নার্থীদের উদ্দেশ্যে পঞ্চশীল পাঠ করেন রাজ বনবিহারের প্রধান পৃষ্টপোষক চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়।
অনুষ্টানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা,পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, সাবেক পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা,রাজবন বিহার কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌতম দেওয়ান। রাজ বনবিহারে ৪৩তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে রাজ বনবিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরের হাতে চীবর তুলে দেন রাজ বন বিহারের প্রধান পৃষ্টপোষক চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। রাঙামাটি রাজ বনবিহারে দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন রাজ বনবিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।
এদিকে,অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাঙামাটি শহরে উৎসবের আমেজে পরিণত হয়েছে, রাজবিহার প্রাঙ্গনে বসেছে মেলা। রাঙামাটি পুরো শহর যেন ছিলো উৎসবের নগরী। বৃহস্পতিবার ৪৩তম কঠিন চীবর দানোৎসবের প্রথম দিনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চরকা সূতা কাটা থেকে কাপড় তৈরীর জন্য বেইন ঘর উদ্ভোধন ও পঞ্চশীল প্রদান দেন রাঙামাটি রাজ বন বিহারের ভিক্ষু-সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। শুক্রবার তৈরীকৃত চীবর(রং বস্ত্র) ধর্মীয় অনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশ্য দান করার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সম্পন্ন হয়েছে। চীবর দান অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক পূর্নাথী অংশগ্রহন করেন।
উল্লেখ্য, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবব্দশায় মহাপূর্নবতী বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে সূতা কাটা শুরু করে কাপড় বয়ন, সেলাই ও রং করাসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয় বলে একে কঠিন চীবর দান হিসেবে অভিহিত করা হয়।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।