রাঙামাটির শহীদ আব্দুস শুক্কুর স্টেডিয়ামের মঞ্চ ভেঙ্গে অফিস : খেলার মাঠেই বাথরুম !

রাঙামাটির শহীদ আব্দুস শুক্কুর স্টেডিয়ামের মঞ্চ ভেঙ্গে অফিস ও খেলার মাঠেই বাথরুম তৈরী করা হচ্ছে
রাঙামাটি জেলার রিজার্ভ বাজারের ঐতিহ্যবাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুস শুক্কুর মাঠে মঞ্চ ভেঙ্গে অফিস ও খেলার মাঠে বাথরুম নির্মাণ এবং বাস রাখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রীড়া মোদীদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, কোন প্রকার নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ও স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে আলাপ আলোচনা না করে মঞ্চ ভেঙ্গে অফিস ও খেলার মাঠে বাথরুম নির্মান ও মাঠে বাস রাখা হচ্ছে।
জানা গেছে, চাপের মুখে মাঠে বাথরুম নির্মান আপাততঃ বন্ধ থাকলেও ঐতিহ্যবাহী মঞ্চ ভেঙ্গে অফিসঘর নির্মানের কাজ এগিয়ে চলছে। কাজের তদারকির দায়িত্বে জেলা ক্রীড়া সংস্থা থাকলেও এ বিষয়ে জানেন না সংস্থাটির অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে নামার মুখে যে মঞ্চটি ছিল ওটি পুরোপুরি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ওখানে তড়িঘড়ি করে অফিসঘর নির্মান করা হচ্ছে। অন্যদিকে একেবারে খেলার মাঠে যেখানে ক্রিকেট প্র্যাকটিসের জন্য পাকা পিচ রয়েছে সেখানে মাটি খুঁড়ে বাথরুম করার সমস্ত আয়োজন করে রাখা হয়েছে। তবে আপাততঃ বাথরুম নির্মানের কাজ বন্ধ, খুড়ে রাখা গর্ত, ইট, রড পড়ে আছে এখানে সেখানে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আওতায় প্রতি উপজেলা একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মান প্রকল্পে এই কাজটি করা হচ্ছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় ক্রীড়ামোদী, ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাঙামাটিতে বড় বড় সভা-সমাবেশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার মত একমাত্র জায়গা হচ্ছে এই মাঠটি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই বার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একবার এ মঞ্চে পা রেখে বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তাছাড়া, ধারাবাহিকভাবে বড় জমায়েত হতে পারে এমন অনুষ্ঠানও এ মাঠে করা হয়। তাদের অভিযোগ, এখানে কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে তা বুঝার উপায় নাই।
তারা আরো বলেন, প্রথমে বলা হয়েছে মঞ্চ ঠিক রেখে দ্বিতীয় তলায় অফিস হবে। কিন্তু এখন যেভাবে কাজ চলছে, তাতে করে মনে হচ্ছে মঞ্চের কোন অস্তিত্বই থাকবে না। মঞ্চ না থাকলে অনুষ্ঠান করাও হবে না। মুলতঃ রিজার্ভ বাজার এলাকাকে বিনোদনবিহীন করে রাখার ষড়যন্ত্র এটি।
অন্যদিকে, খেলার মাঠে বাথরুম নির্মান করতে দেখে সবাইকে হতবাক করেছে। মাঠটি এমনিতে অপরিকল্পিতভাবে দুটি গ্যালারী নির্মান করার কারণে মাঠের মুল সৌন্দর্য্য নষ্ট করে ফেলেছে এবং ছোট করে ফেলা হয়েছে। যে জায়গায় ক্রিকেটের নেট প্র্যাকটিস হয় বা ফুটবলের ওয়ার্ম-আপ হয়, সেখানে বাথরুমের জন্য জায়গা নির্ধারন করা ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় বহন করে না বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি ইদানিং দেখছি, খেলার মাঠে পিকনিকের গাড়ি রাখা হচ্ছে। এখন সবারই বার্ষিক পরীক্ষা শেষ, খেলাধুলা করবে সে পরিবেশও নেই। মাঠটির নীতিনির্ধারক মহলের এমন আচরণে সবার মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে।
মাঠ সংলগ্ন রাইজিং ষ্টার ক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম জানান, রিজার্ভ বাজারের একমাত্র মাঠ সংলগ্ন অনেক গুরুত্ব বহন করে। এ মঞ্চে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে সামাজিক ও ক্রীড়ার নানাধরণের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। মঞ্চ ভেঙ্গে অফিস নির্মাণের বিরোধিতা করে তিনি জানান, নীচের তলায় মঞ্চ, উপর তলায় অফিস হলে সেটা ভাল হতো। এখন এসব সভা সমাবেশ বা অন্যান্য অনুষ্ঠান করার জন্য মঞ্চ পাওয়া যাবে কোথায়?
ক্রীড়াসংগঠক মো. হাসান, খেলোয়াড় মুন্না, রুবেল, রফিক এরা সবাই হতবাক হয়েছে মাঠে বাথরুম নির্মান দেখে। তাদের মতে, আমরা অবাক হয়েছি। যারা (মিস্ত্রি) কাজ করছে, তাদের কাছে জানতে পেরে প্রতিবাদ জানিয়েছি। শুনেছি, জেলা প্রশাসক মহোদয় মাঠে বাথরুম নির্মান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে নির্মানের বিষয়ে কোন দপ্তর এটি বাস্তবায়ন করছে? কারা তদারকি করছে কেউ জানে না। শুধুমাত্র কয়েকজন মিস্ত্রি এ নির্মান প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তারা জানান, একটা অফিস নির্মান হচ্ছে নির্মান সামগ্রী কোথা হতে আসছে? এসব সামগ্রী মানসম্মত কি না তাও দেখার লোকজন গত কয়েকদিন চোখে পড়েনি। মিস্ত্রিদের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তারা জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার লোকজন এটি দেখাশোনা করছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আওতায় প্রতি উপজেলায় নির্মানাধীন উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের আওতায় ৪১ টাকা ব্যয়ে ঐতিহ্যবাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুস শুক্কুর মাঠে একটি মিনি প্যাভেলিয়ন, একটি টয়লেট বøক ও ৩৫টি আরসিসি বেঞ্চ ও উন্নয়ন কাজ করা হবে। কাজটি সুষ্ঠু ও স্ন্দুরভাবে বাস্তবায়নে ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক প্রেরিত পত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদারের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Maksudur Rahaman Mitu বলেছেন

    অফিস হোক আর টয়লেট/বাথরুম হোক, যাই হোক না কেন তবে মাঠের অংশে যেন ভাগ না বসে…..

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।